মাধ্যমিক পর্যায়ের নবীন শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক ৫৬ দিনের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে ঈদের পর। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে শিক্ষকরা শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদানের কৌশল শিখবেন না, বরং প্রতিদিন ৬০০ টাকা ভাতাসহ পাবেন থাকা-খাওয়ার সুবিধাও।
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণটি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হচ্ছে। টি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের অংশ।
প্রকল্পটি অক্টোবর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। লেইস প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবীন শিক্ষকদের মানোন্নয়নে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ইদুল ফিতরের পর ২৫,২৪০ জন নতুন মাধ্যমিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ শুরু করতে হবে। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণের প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। বিষয়টি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) লেইস প্রকল্পের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪০ বছরের নিচের নবীন শিক্ষকরা এই প্রশিক্ষণের আওতায় থাকবেন। সারাদেশের ২৮,৮০০ জন নতুন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩,৬৪০ জন শিক্ষক তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। প্রতিটি কলেজে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১১টি কলেজে ৩টি করে ব্যাচ, সিলেটের একটি কলেজে ১টি ব্যাচ এবং পাবনা ও চট্টগ্রামের দুটি কলেজে ২টি করে ব্যাচের মাধ্যমে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নেবেন। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে, যা টানা ৫৬ দিন ধরে চলবে। প্রশিক্ষণকালীন শিক্ষকরা থাকা-খাওয়ার সুবিধা পাবেন এবং প্রতিদিন ৬০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন শিক্ষকদের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চলতি মাসের শেষের দিকে প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিধাপে ৩৯টি ব্যাচের মাধ্যমে দেশের নবীন মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে গিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দেয়, এছাড়া অনেক শিক্ষক টিউশনি বা ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহী হন না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। আমরা সবমিলিয়ে নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছি।
বেসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা কেবল পাঠদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে না, বরং শ্রেণিকক্ষে আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া, প্রতিদিনের ভাতা এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নবীন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষামন্ত্রণালয় আশা করছে, এই প্রশিক্ষণ নতুন শিক্ষকদের প্রফেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।



