ঈদের পর নবীন মাধ্যমিক শিক্ষকরা পাবেন মোট প্রায় ৩৪ হাজার টাকার সুবিধা। ৫৬ দিনের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময় প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে ভাতা। একই সঙ্গে পাবেন থাকা-খাওয়ার সুবিধা।
মাধ্যমিক পর্যায়ের নবীন শিক্ষকদের জন্য ৫৬ দিনের এই বেসিক প্রশিক্ষণ লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণে শিক্ষকরা কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কৌশলই শিখবেন না, বরং আধুনিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সম্প্রতি এই প্রশিক্ষণের অফিসিয়াল আদেশ জারি করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল ফিতরের পর ২৫,২৪০ জন নতুন মাধ্যমিক শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪০ বছরের নিচের নবীন শিক্ষকরা প্রশিক্ষণের আওতায় থাকবেন। সারাদেশে মোট ২৮,৮০০ জন নতুন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩,৬৪০ জন শিক্ষক তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে দেওয়া হবে। ১১টি কলেজে প্রতি কলেজে ৩টি ব্যাচ, সিলেটের একটি কলেজে ১টি ব্যাচ এবং পাবনা ও চট্টগ্রামের দুটি কলেজে ২টি করে ব্যাচে প্রশিক্ষণ হবে। প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে, যা টানা ৫৬ দিন ধরে চলবে।
লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষকদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৩৯টি ব্যাচের মাধ্যমে দেশের নবীন মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিতে পারে, আবার অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহী নাও হতে পারেন। এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শিক্ষকরা বেসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেবল পাঠদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন না, বরং শ্রেণিকক্ষে আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবেন। প্রতিদিনের ভাতা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নবীন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষামন্ত্রণালয় আশা করছে, এই প্রশিক্ষণ নতুন শিক্ষকদের প্রফেশনাল দক্ষতা বাড়াবে এবং দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।



