ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাতিল হতে পারে প্রতিষ্ঠান প্রধান-সহকারী প্রধানের অভিজ্ঞতার শর্ত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষিকা। ছবি : সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা শিথিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এই শর্ত বাতিল বা কমিয়ে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের পক্ষে মো. আবু নাছের সুমন, মো. তোফায়েল আহমেদ, মো. আসিফ আলী এবং মো. নজরুল ইসলাম মৃধা স্মারকলিপিটি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা জারি করেছে। এর ফলে চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যারা ১৮ বছরের কম অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেদন করেছেন, তারা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

আবেদনকারীরা জানান, অতীতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই উভয় পদের জন্য সমানভাবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়নি। বরং দুই পদের মধ্যে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পার্থক্য রাখা হতো। নতুন এ সিদ্ধান্তের কারণে অনেক যোগ্য, মেধাবী ও তরুণ শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

শিক্ষকদের মতে, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। সে হিসেবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা পূরণ করতে একজন শিক্ষকের বয়স প্রায় ৫৩ বছর হয়ে যায়, যা অবসরের সময়সীমার কাছাকাছি। এতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণ নেতৃত্বের সংকট দেখা দিতে পারে।

তারা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ হলেও দক্ষ ও উদ্যমী তরুণ শিক্ষকদের নেতৃত্বে আনা জরুরি। তাই প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।