বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামীকালকেই এই প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে যাবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে।
যদিও এরপরেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিলের বেতন প্রাপ্তিতে কিছু ধাপ বাকি থেকে যাবে। সেই ধাপের মধ্যে একটি হলো আইবাস সফটওয়্যার। শিক্ষকদের বেতন এই সফটওয়্যারে সংযুক্ত হওয়ার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একজন কর্মকর্তা জানান, বেতনের তথ্য আইবাস সিস্টেমে আপলোড হওয়ার পরও সেটা পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সব প্রসেস শেষ হওয়ার পর আগামী সপ্তাহের বুধ অথবা বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা বেতন পেতে পারেন।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের এমপিওর অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে প্রেরণের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিল জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ২৪ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিল জমা দিতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-সংক্রান্ত বিল যথাসময়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল প্রস্তাব আকারে দাখিল করেন। এরপর সেই বিল যাচাই-বাছাই করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেতন-ভাতার অর্থ ব্যাংকগুলোতে প্রেরণ করে, যা পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়াকে নিয়মিত, স্বচ্ছ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং জটিলতা অনেকাংশে কমে এসেছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



