সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলেই আপনি দ্রুত বুঝতে পারবেন যে সপ্তাহের প্রায় প্রতিটি দিনই কোনো না কোনো উপলক্ষ্যে উদযাপিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কি জানতেন যে ১৮ ফেব্রুয়ারি হলো ‘আঙুল প্রশংসা দিবস’ বা ৯ মে হলো ‘জাতীয় হারানো মোজা দিবস’?
এই ধরনের নানা মজার উপলক্ষের মধ্যে এমন একটি দিন আছে, যা শিক্ষকরা কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে চাইবেন না—তা হলো বিশ্ব বই দিবস!
১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ১০০টিরও বেশি দেশ এই বার্ষিক উদযাপনের মাধ্যমে বই পড়ার আনন্দ, ভাবনা ও নানাবিধ আলোচনা তুলে ধরে।
ইউনেস্কো এই দিনটি বেছে নিয়েছে কারণ এই দিনে উইলিয়াম শেক্সপিয়র এবং ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগার (ইনকা ইতিহাস ও সংস্কৃতির একজন বিশিষ্ট লেখক) মৃত্যুবার্ষিকী।
বিখ্যাত ‘গেম অব থ্রোনস’ লেখক জর্জ আর. আর. মার্টিনের ভাষায়, ‘একজন পাঠক তার মৃত্যুর আগে হাজার জীবন যাপন করে… যে মানুষ কখনো বই পড়ে না, সে কেবল একটি জীবনই যাপন করে।’
বিশ্ব বই দিবস উদযাপনের ১০টি উপায়
১. সাহিত্য চরিত্রের মতো সাজা
ছাত্রছাত্রীদের তাদের প্রিয় বইয়ের চরিত্রের মতো পোশাক পরতে উৎসাহিত করুন। একটি ‘স্পিরিট ডে’ আয়োজন করতে পারেন। চাইলে প্যারেড, চরিত্র উপস্থাপন এবং ছবি তোলার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
২. বই পড়ার নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি
শ্রেণিকক্ষ বা বাড়িতে একটি আরামদায়ক পাঠকোণ তৈরি করুন বা বিদ্যমান স্থানটি আরও সুন্দরভাবে সাজান। এরপর মনোযোগ দিয়ে বই পড়া শুরু করুন- এটি বিশ্ব বই দিবস উদযাপনের একটি দারুণ উপায়।
৩. বই বিনিময়
পাঠকরা নিজেদের পছন্দের বই একে অপরের সঙ্গে অদলবদল করতে পারেন। এতে নতুন বই নিয়ে কৌতূহল বাড়ে এবং পড়ার আনন্দও বৃদ্ধি পায়।
৪. বই ক্লাব আয়োজন
কয়েকজন পাঠক খোলা মাঠে বা শ্রেণিকক্ষে বসে বই নিয়ে আড্ডা দিতে পারেন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের বই নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতে পারে।
৫. নিজের বই লেখা শুরু
পাঠক থেকে লেখক হওয়ার যাত্রা এখান থেকেই শুরু হতে পারে। একজন পাঠক হিসেবে আপনি নিজের লেখা শুরু করতে পারেন। চাইলে গল্প লেখা, ছবি আঁকা বা বই নিয়ে নতুন আইডিয়া তৈরি করেও ভবিষ্যতে বড় লেখা তৈরি করতে পারেন।
৬. বই-ভিত্তিক খেলা
ইমোজি পিকশনারি বা বই খোঁজার মতো মজার গেম আয়োজন করা যেতে পারে, যা শেখাকে আনন্দদায়ক করে তোলে।
৭. লাইব্রেরি ভ্রমণ
স্কুল বা স্থানীয় লাইব্রেরিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। লাইব্রেরিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া, পাঠকদের মতামত জানা এবং বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
৮. লেখকের পাঠ
কোনো লেখককে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার নিজের লেখা থেকে পাঠ করানো যেতে পারে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা হবে।
৯. বই বনাম চলচ্চিত্র
একই গল্পের বই পড়ে তার চলচ্চিত্র দেখে তুলনা করুন। এরপর ক্লাসে আলোচনা বা ভোটের আয়োজন করতে পারেন।
১০. নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
শুধু একদিন নয়, নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করে।

