× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

বেশিরভাগ নারী বিশ্বাস করেন তারা ভুল মানুষের সঙ্গে সংসার করছেন 

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শুধু ভালোবাসা নয়, বোঝাপড়া ও পারস্পরিক উন্নতির মানসিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। গবেষণা বলছে, সুখী সম্পর্কের মূল হলো সহমর্মিতা, সম্মান, সমান অংশগ্রহণ ও খোলামেলা যোগাযোগ। যখন এসব অনুপস্থিত থাকে তখন একই সংসারে থেকেও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।

সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের বহু গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে মনে করেন তারা হয়তো সঠিক মানুষকে বিয়ে করেননি। 

অনেক নারী উপলব্ধি করেন, সঙ্গীর সাথে মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ বা আবেগগত বোঝাপড়ার মিল কম ছিল শুরু থেকেই। ফলে সময়ের সাথে তাদের মনে জন্ম নেয় ‘ভুল মানুষ’ বেছে নেওয়ার অনুভূতি। সম্পর্কের শুরুতে আবেগ, আকর্ষণ ও সামাজিক চাপ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, কিন্তু বাস্তব সংসার শুরু হলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গবেষণা বলছে, সম্পর্কের মানসিক সন্তুষ্টি নারীদের মানসিক সুস্থতার সাথে গভীরভাবে যুক্ত; সম্পর্ক ভালো না হলে হতাশা দ্রুত তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সংসারের ‘মানসিক দায়িত্ব’ বা mental load অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর ওপর পড়ে, যেমন পরিবার পরিকল্পনা, সন্তান, সামাজিক সম্পর্ক ও গৃহব্যবস্থাপনার চিন্তা। এই অসম দায়িত্ববণ্টন নারীদের মধ্যে অবমূল্যায়নের অনুভূতি তৈরি করে এবং সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষ বাড়ায়। 

একটি গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীর আচরণ ও যোগাযোগের ধরন নারীদের আবেগগত অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখে, বিশেষত দ্বন্দ্বের সময় সঙ্গীর কথা ও আচরণ নারীর অনুভূতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রত্যাশার পরিবর্তন। আধুনিক নারীরা এখন শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়, মানসিক সঙ্গ, সম্মান, সহমর্মিতা ও ব্যক্তিগত বিকাশ চান। কিন্তু অনেক সম্পর্ক এখনো পুরোনো সামাজিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে যেখানে আবেগগত সমতা অনুপস্থিত। গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্কের সন্তুষ্টি নারীদের ব্যক্তিত্ব, আত্মসম্মান ও পারস্পরিক সহানুভূতির ওপর বেশি নির্ভরশীল; এসব অনুপস্থিত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে অসন্তুষ্টি বাড়ে।

সঙ্গীর একটি নেতিবাচক কথা বা অবহেলা তাদের কাছে কেবল একটি ঘটনা নয়, বরং পুরো সম্পর্কের প্রতি একটি হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। জন গটম্যানের মতো বিখ্যাত সম্পর্ক গবেষকদের মতে, ঝগড়া বা দ্বন্দ্বের সময় সঙ্গী যদি অবজ্ঞা (Contempt) বা পাথর হয়ে যাওয়া (Stonewalling)-র মতো আচরণ করেন, তবে তা নারীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। 

গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা সাধারণত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘যোগাযোগ’ (Communication) এবং ‘আবেগগত নিরাপত্তা’ (Emotional Safety)-কে বেশি গুরুত্ব দেন।

অনেকে মনে করেন নারীদের ক্ষেত্রে কেবল আবেগগত দিকটিই মুখ্য, কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে যৌন তুষ্টি (Sexual Satisfaction) সম্পর্কের স্থায়িত্বের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক সময় নারী সম্পর্ক ছাড়েন না সামাজিক চাপ, সন্তান বা নিরাপত্তার কারণে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে মনে করেন তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

বলা যায়, ‘ভুল মানুষ’ ধারণাটি সবসময় ভুল নির্বাচন নয়; বরং অপূর্ণ প্রত্যাশা, অসম দায়িত্ব, দুর্বল যোগাযোগ ও আবেগগত অমিলের ফল। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!