চিকিৎসকরা হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারণ হিসেবে তারা মনে করেন শুধু ওষুধ খেলেই রক্তচাপের সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি মেলে না। এর জন্য সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের সঙ্গে মেডিটেশন ও যোগাসন করতেও অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন।
জীবনযাপনে অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগের ফলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অসংখ্য রোগী। এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে বিশেষ কয়েকটি যোগাসন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের যোগাসনের মধ্যে পশ্চিমোত্তাসন, শবাসন আর বলাসন কার্যকরী। এসব যোগাসন নিয়মিত অনুশীলনেই বশে থাকবে উচ্চ রক্তচাপ।
আসুন যোগাসনগুলো সম্পর্কে জেনে নিই-
পশ্চিমোত্তাসন : এই আসনটি করতে সবার প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে দু’হাত মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখুন। পা দুটি একসঙ্গে জোড়া রাখুন। এ বার ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙুল স্পর্শ করুন। কপাল দু’পায়ে ঠেকান। হাঁটু ভাঁজ না করে পেট ও বুক উরুতে ঠেকান। কিছুক্ষণ এই ভঙ্গিতে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
শবাসন : সবচেয়ে সহজ আসন মনে হলেও শবাসন করতে মানসিক স্থিরতার প্রয়োজন। চিত হয়ে শুয়ে পা দুটি লম্বা করে ছড়িয়ে দিন। দুটি হাত শরীরের দু’পাশে শরীরসংলগ্ন রাখুন। হাতের তালু দুটি শিথিল করে রাখুন। চোখ বন্ধ করুন। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে মরার মতো পড়ে থাকার পর ধীরে ধীরে উঠে বসুন। এতে মন এবং মস্তিষ্ক দুটোই শান্ত থাকবে।
বলাসন : যোগাভ্যাসের সবচেয়ে আরামদায়ক একটি আসন। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘চাইল্ডস পোজ’। এই আসনটি করতে প্রথমে বজ্রাসনে বসুন। হাত দুটি প্রণাম করার ভঙ্গিতে একসঙ্গে জড়ো করে সামনের দিকে ঝুঁকে বসুন। এবার ধীরে ধীরে শ্বাস নিন আর ছাড়ুন। কয়েক মুহূর্ত করার পর ধীরে ধীরে উঠে বসুন।
প্রতি আসন অনুশীলনের পর ২ মিনিট শবাসন করার নিয়ম রয়েছে। তাই যে আসনই করুন না কেন তা অনুশীলনের পর অন্তত ২ মিনিট শবাসন করুন। নিয়মিত এই তিন আসনের অনুশীলনে আপনার রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।


