ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এই নতুন ট্রিক জানলে অনিদ্রা পালাবে নিমিষেই!

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৬:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ভালো ঘুম অপরিহার্য। ব্যস্ত দিনের শেষে অনেকেই দ্রুত ঘুমানোর উপায় খুঁজে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘুমের মান উন্নত করতে ঘুমানোর আগে অন্ধকার বা মৃদু আলোতে গোসল করার পরামর্শ দিচ্ছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা। এটি ধীরে ধীরে একটি লাইফস্টাইল ট্রেন্ডেও পরিণত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম নিয়ন্ত্রণে শুধু পানির তাপমাত্রা নয়, আলোর উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেহের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে আলো বড় প্রভাব ফেলে। সন্ধ্যার পর আলো কমে গেলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে।

অন্যদিকে, রাতে উজ্জ্বল আলো বা মোবাইল–ল্যাপটপের স্ক্রিন এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। ফলে ঘুমাতে দেরি হয় এবং ঘুমের গভীরতা কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃদু আলো বা অন্ধকার পরিবেশে গোসল করলে স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত শিথিল হওয়ার সংকেত পায়, যা ঘুমের প্রস্তুতিকে সহজ করে।

ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়ে এবং পরে তা ধীরে ধীরে কমে আসে। এই পরিবর্তন মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত দেয়। এর সঙ্গে অন্ধকার পরিবেশ যুক্ত হলে মানসিক প্রশান্তি আরও বাড়ে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা বা ইনসোমনিয়া থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অন্ধকারে গোসল কোনো চিকিৎসা নয়, বরং এটি একটি সহায়ক রিল্যাক্সেশন কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে।

ঘুমের মান উন্নত করতে বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—

১. ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ঘরের আলো কমিয়ে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করা
২. হালকা গরম পানিতে গোসল করা, প্রয়োজনে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করা
৩. গোসলের পর উজ্জ্বল আলো বা স্ক্রিন এড়িয়ে চলা
৪. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ অন্ধকারে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিরাপত্তার জন্য মৃদু আলো ব্যবহার করা উচিত, বিশেষ করে বয়স্ক বা ভারসাম্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

অন্ধকারে গোসল কোনো ফ্যাড নয়, বরং এর পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। সঠিক রুটিনের অংশ হিসেবে এটি মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।