দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারের চেয়ে মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকতে ইফতারের তালিকায় ভাজাপোড়ার বদলে টাটকা মৌসুমি ফল রাখা উচিত। কারণ, মৌসুমি ফলগুলো সহজপাচ্য, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর দ্রুত তা গ্রহণ করতে পারে।
ইফতারের টেবিলে এক বাটি রঙিন মৌসুমি ফল, যেমন—তাৎক্ষণিক সতেজতা দেয়, তেমনি পূরণ করে শরীরের পুষ্টির চাহিদাও। বর্তমানে বাজারে গ্রীষ্মকালীন ফলের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
ইফতারে যেসব ফল রাখবেন
খেজুর : ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। এটি তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোর সবচেয়ে ভালো উৎস। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক করে এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।
তরমুজ : প্রায় ৯০ শতাংশ পানিসমৃদ্ধ এই ফলটি দিনের দীর্ঘ পানিশূন্যতা দ্রুত দূর করতে কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরকে সতেজ করে তোলে।
কলা : শক্তি জোগাতে কলার জুড়ি মেলা ভার। উচ্চমাত্রার পটাশিয়ামসমৃদ্ধ এই ফল শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে এবং সারাদিনের রোজা শেষে পেশির দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।
পেঁপে : হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ পেঁপে পেটের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর এটি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কাজ করে।
কমলা বা মাল্টা : ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস হলো কমলা বা মাল্টা। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যা বাড়াতে এই ফলগুলো দারুণ কার্যকর। এ ছাড়া এগুলোতে থাকা প্রচুর পরিমাণে পানি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সতেজ রাখতে এবং পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।
আনারস ও অন্যান্য : ভিটামিন সি এবং ব্রোমেলিন এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস হজমে সহায়তা করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের এটি পরিমিত খাওয়া উচিত। এ ছাড়া ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট হিসেবে পানির ঘাটতি মেটায় এবং মাল্টা বা কমলালেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া কমিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত মৌসুমি ফল ও প্রচুর পানি পান করলে রমজান মাসে শরীর সুস্থ ও সচল রাখা সম্ভব।


