× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:১৪ এএম

হাম কি, লক্ষণ শুরু হলে কী করবেন

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:১৪ এএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আজও বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে শিশুদের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। অনেকেই একে ‘জার্মান মিজলস’ নামে চিনে থাকেন, যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর আলাদা পরিচয় রয়েছে।

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না নিলে হাম থেকে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে—যা কখনো কখনো জীবনঝুঁকিও ডেকে আনতে পারে। তবুও আশার কথা হলো, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ, এবং নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সাধারণত এক বছর থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়, কারণ এই বয়সে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তবে হাম শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; টিকা না নেওয়া বড়রাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

এ কারণেই বর্তমানে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও “এমএমআর” ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও একবার হাম হলে সাধারণত দ্বিতীয়বার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তবুও এই রোগের উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতার কারণে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি।

সমস্যা হলো, হামের শুরুটা অনেক সময় খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ দিয়ে হয়—যেমন হালকা জ্বর, কাশি বা চোখ লাল হওয়া—যা আমরা প্রায়ই সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে অবহেলা করি। কিন্তু এই ছোট ছোট লক্ষণই হতে পারে একটি বড় সংক্রমণের শুরু। সময়মতো লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে না পারলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

হাম এতটাই সংক্রামক যে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি খুব সহজেই তার আশপাশের অনেককে সংক্রমিত করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শুধু রোগীর সুস্থতার জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারের সুরক্ষার জন্যও।

এদিকে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে গেছে। চলতি মার্চ মাসে শুধু রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে চিকিৎসাসেবায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

এমন পরিস্থিতিতে হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা এবং সঠিক সময়ে কী করণীয় তা বোঝা প্রতিটি অভিভাবক ও সচেতন মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

হামের লক্ষণ 

হামের লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং প্রথমদিকে অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশির মতো মনে হতে পারে। তাই অনেক অভিভাবক বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ খেয়াল করলে সহজেই বোঝা যায় যে এটি হাম হতে পারে।

  • হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
  • শুকনো কাশি
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও পানি পড়া
  • শরীর দুর্বল লাগা

এই লক্ষণগুলো শুরু হওয়ার ২–৩ দিনের মধ্যে ত্বকে লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়। সাধারণত র‍্যাশ প্রথমে মুখে শুরু হয়, তারপর ধীরে ধীরে ঘাড়, বুক, হাত-পা হয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

লক্ষণ দেখা দিলে যা করবেন

হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে রোগীর অবস্থা খারাপ না হয় এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

১. রোগীকে আলাদা রাখুন

হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্যান্য শিশু বা পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখা জরুরি। এতে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে দূরে রাখুন।

৩. পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার দিন

হামের সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বেশি করে পানি, স্যুপ, ডাবের পানি, নরম ও সহজপাচ্য খাবার দিন। ভিটামিনসমৃদ্ধ ফলমূল যেমন—কমলা, পেঁপে, কলা উপকারী হতে পারে।

জ্বর ও অস্বস্তি কমানোর উপায়

  • কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন
  • শিশুকে হালকা ও আরামদায়ক কাপড় পরান
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ ব্যবহার করুন

চোখ ও ত্বকের যত্ন

  • হামের সময় চোখ ও ত্বক খুব সংবেদনশীল হয়ে যায়।
  • পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ আলতো করে মুছুন
  • র‍্যাশে হাত দেওয়া বা চুলকানো থেকে বিরত রাখুন
  • পরিষ্কার ও নরম কাপড় ব্যবহার করুন
  • কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি

  • জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
  • শিশুর খাওয়ার আগ্রহ কমে গেলে বা বারবার বমি হলে
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অচেতন ভাব দেখা দিলে
  • র‍্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে

পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষা

একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত:

  • নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
  • আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিস আলাদা রাখা
  • ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা
  • পরিবারের সবাই টিকা নিয়েছে কি না তা যাচাই করা

যা করবেন না

  • শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না
  • নিজে নিজে ওষুধ শুরু করবেন না
  • র‍্যাশে অজানা কোনো ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার করবেন না
  • ‘এটা কিছু না’ ভেবে অবহেলা করবেন না

সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা

হামের নাম শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলা করারও সুযোগ নেই। সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারা, সঠিক যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন থাকলে এবং টিকা নিশ্চিত করলে হাম থেকে নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

Link copied!