রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যের পরিবর্তন হতে পারে, যা হৃদরোগীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগীরাও নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।
সুস্থভাবে রোজা সম্পন্ন করতে হৃদরোগীদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা মেনে চলা অতি গুরুত্বপূর্ণ।
১. সেহরি ও ইফতারের খাদ্যতালিকায় সতর্কতা
খাবারের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ কমানো সম্ভব।
ভাজাপোড়া বর্জন : ইফতারে বেগুনি, পেঁয়াজু বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে সেদ্ধ বা গ্রিল করা খাবার বেছে নিন।
লবণ নিয়ন্ত্রণ : খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ বা লবণাক্ত খাবার (যেমন—আচার, চিপস) পরিহার করুন। লবণ শরীরে পানি জমিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
আঁশযুক্ত খাবার : সেহরিতে লাল চালের ভাত, ওটস বা শাকসবজি খান, যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখে।
চিনিযুক্ত পানীয় : প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত মিষ্টি শরবতের বদলে ডাবের পানি বা সাধারণ পানি পান করুন।
২. পানিশূন্যতা রোধে করণীয়
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ অনেক পানি পান করা যাবে না।
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন (কমপক্ষে ২ থেকে ২.৫ লিটার)।
কফি বা চা পানে বিরত থাকুন। কারণ, এগুলো প্রস্রাবের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে।
৩. ওষুধের সমন্বয় (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
রোজার সময় ওষুধের সময়সূচি নিজে নিজে পরিবর্তন করবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শ : রোজা শুরুর আগেই আপনার কার্ডিওলজিস্টের সঙ্গে কথা বলে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন।
ওষুধের সময় : সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে এমন ওষুধ সেহরি বা ইফতারে একবার সেবনের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে : যদি বুকে ব্যথা অনুভব করেন, তবে রোজা থাকা অবস্থায়ও জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪. শরীরচর্চা ও বিশ্রাম
রোজার সময় খুব ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।
ইফতারের পর হালকা হাঁটাচলা করা যেতে পারে।
তারাবির নামাজ হৃদরোগীদের জন্য একটি ভালো শারীরিক কসরত হিসেবে কাজ করে। তবে খুব ক্লান্ত বোধ করলে বিশ্রাম নিন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি রোজা রাখা অবস্থায় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভব করা।
অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়া।
প্রচণ্ড দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা পালস কমে যাওয়া।
যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, হার্ট ফেইলিউর আছে অথবা হার্টে রিং (Stenting) পরানো হয়েছে খুব অল্প সময় আগে, তাদের রোজা রাখার ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের লিখিত অনুমতি নেওয়া জরুরি।


