তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই সময়ে ত্বকের অন্যতম প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায় ঘামাচি। মূলত অতিরিক্ত গরমে ঘামগ্রন্থি যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন ঘাম বের হতে না পেরে ত্বকের নিচে জমে লালচে দানা বা ফুসকুড়ির সৃষ্টি করে। এতে প্রচণ্ড চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়, যা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।
তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের অন্যতম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ঘামাচি। বিশেষ করে আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামগ্রন্থি বন্ধ হয়ে ত্বকের এই সমস্যা প্রকট হয়।চিকিৎসকদের মতে, সচেতন থাকলে এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঘামাচি কেন হয়?
শরীরের ঘাম নিঃসরণকারী নালীগুলো কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ঘামাচি দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা, সিন্থেটিক বা টাইট পোশাক পরা এবং দীর্ঘ সময় ঘাম শরীরে বসে থাকা এর অন্যতম কারণ।
প্রতিরোধের কার্যকর উপায়
১. সঠিক পোশাক নির্বাচন: গরমে সুতির হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরার কোনো বিকল্প নেই। সুতি কাপড় ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে এবং ত্বকে বাতাস চলাচলের সুযোগ দেয়। সিন্থেটিক বা পলিয়েস্টার কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. নিয়মিত গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: বাইরে থেকে ফেরার পর বা অতিরিক্ত ঘামলে দ্রুত গোসল করে নেওয়া উচিত। গোসলের সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা আরামদায়ক। তবে ঘামাচি হলে ত্বকে অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার না করে নিম পাতা ভেজানো পানি বা মৃদু কোনো ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. ত্বক শুষ্ক রাখা: শরীর যাতে দীর্ঘক্ষণ ভেজা বা ঘামাক্ত না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘাম হলে নরম রুমাল বা টিস্যু দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। তবে মনে রাখবেন, ঘামাচি সারাতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের অভ্যাস হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ পাউডার ঘাম নিঃসরণের ছিদ্রপথগুলো বন্ধ করে দেয়।
৪. ঘরোয়া সমাধান: ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে চন্দন বাটা বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত স্থানে বরফ কিউব ঘষলেও দ্রুত স্বস্তি মেলে। মুলতানি মাটি গোলাপ জল দিয়ে মিশিয়ে ২০ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৫. প্রচুর পানি ও তরল খাবার: শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও মৌসুমি ফল শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে ঘামাচি সেরে যায়। তবে যদি ঘামাচির স্থানটি বেশি লাল হয়ে ফুলে যায়, পুঁজ জমে কিংবা জ্বর আসে, তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
একটু সতর্কতা আর পরিচ্ছন্নতাই পারে এই গরমে আপনার ত্বককে সতেজ ও ঘামাচিমুক্ত রাখতে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন