ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশে ই-স্পোর্টসে মাসে লাখ টাকা আয়ের সুযোগ কতটা বাস্তব?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বাংলাদেশে ই-স্পোর্টসে মাসে লাখ টাকা আয়ের সুযোগ। ছবি : সংগৃহীত

এক সময় বাবা-মায়ের বকুনি খাওয়ার কারণ ছিল ভিডিও গেম। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই গেম খেলাই এখন হয়ে উঠেছে আয়ের সম্মানজনক উৎস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ‘ই-স্পোর্টস’ শিল্পে এখন শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে বাংলাদেশের তরুণেরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গেম খেলে মাসে লাখ টাকা আয় করা কি আসলেই সবার জন্য সম্ভব? না কি এটি কেবল গুটিকয়েক মানুষের সফলতা?

ই-স্পোর্টস কী এবং আয়ের উৎসগুলো কী কী?
ই-স্পোর্টস হলো ভিডিও গেমের মাধ্যমে আয়োজিত পেশাদার প্রতিযোগিতা। এখানে ফুটবল বা ক্রিকেটের মতোই টুর্নামেন্ট হয়, ক্লাব থাকে এবং খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়া হয়। আয়ের প্রধান মাধ্যমগুলো হলো:

টুর্নামেন্ট প্রাইজমানি: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জয়ী হয়ে বড় অংকের অর্থ পুরস্কার পাওয়া।

স্ট্রিমার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর: ফেসবুক বা ইউটিউবে গেম প্লে লাইভ স্ট্রিম করে বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরশিপ থেকে আয়।

পেশাদার বেতন: দেশি-বেশি ই-স্পোর্টস অর্গানাইজেশনগুলো এখন দক্ষ গেমারদের মাসিক বেতনে নিয়োগ দিচ্ছে।

ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট: গেমিং পেরিফেরাল (মাউস, কিবোর্ড, হেডফোন) বা টেক ব্র্যান্ডের প্রচারের মাধ্যমে আয়।

লাখ টাকা আয়ের সুযোগ কতটা বাস্তব?
বাংলাদেশে বর্তমানে শীর্ষসারির কিছু গেমার রয়েছেন যারা প্রতি মাসে গড়ে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা বা তার বেশি আয় করছেন। বিশেষ করে PUBG Mobile, Free Fire, Valorant এবং FIFA-র মতো গেমগুলোতে বাংলাদেশের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করছে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। এই সেক্টরে সফল হওয়া অনেকটা পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার মতোই কঠিন। এখানে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন:
১. উচ্চমানের দক্ষতা: কেবল গেম খেললেই হবে না, দেশের সেরা ১ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে।
২. ধৈর্য ও সময়: একজন পেশাদার গেমারকে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতে হয়।
৩. টেকনিক্যাল সেটআপ: গেমিংয়ের জন্য ভালো মানের পিসি বা স্মার্টফোন এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের পেছনে প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সম্ভাবনা:
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেক দল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দুবাই, ভারত বা মালয়েশিয়া যাচ্ছে। সরকারও আইসিটি সেক্টরের অধীনে গেমিংকে উৎসাহিত করছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সুযোগ রয়েছে।

চ্যালেঞ্জ:

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: এখনো অনেক পরিবার গেমিংকে সময় নষ্ট মনে করে।

পৃষ্ঠপোষকতার অভাব: বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ই-স্পোর্টসে স্পন্সর করতে এখনো কিছুটা দ্বিধাবোধ করে।

সার্ভার ও পিং সমস্যা: বাংলাদেশে গেম সার্ভার না থাকায় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অনেক সময় নেটওয়ার্কিং সমস্যায় পিছিয়ে পড়তে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস খাতের আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। যারা সৃজনশীল কন্টেন্ট এবং দক্ষ গেমিংয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারবেন, তাদের জন্য লাখ টাকা আয় করা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। তবে একে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার আগে পড়াশোনা বা বিকল্প আয়ের পথ ঠিক রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।