দেশে ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি। সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে বাজার-উপযোগী এ উদ্ভাবন নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) ‘ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা রূপান্তরের কৌশলগত পথরেখা: সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে বাজার-উপযোগী স্মার্ট আল্ট্রাসনিক সমাধান এবং এসডিজি ২ ও ১২ অর্জন’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র (বাউ-রিক)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমানো খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সালিম খান বলেন, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি এখনো কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবন এ সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে। একইসঙ্গে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ার উদ্দিন প্রযুক্তির বিস্তারে ডিজিটাল উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্বব্যাংক-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ ও টাস্ক টিম লিডার সুপার্না রায় মাঠপর্যায়ে সহজে গ্রহণযোগ্য ও বাজার-উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাউ-রিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন জাতীয় অগ্রাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। অন্যদিকে এসিআই মোটরস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিকীকরণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি জানান, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম, যা পরিবেশবান্ধব এবং কার্যকর।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের ইডিজিই প্রকল্পের কম্পোনেন্ট লিড ফারুক আহমেদ জুয়েল।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে ফসল-পরবর্তী ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে, যা খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন