ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদের আদালত এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গুপ্তচর সূত্রে জানা গেছে যে পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ যেকোনো সময় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই স্থল, নৌ ও বিমান বন্দরে তার পলায়ন রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন: ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তা করা সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। হুমায়ুন ও হাসি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, অন্য আসামিরা রিমান্ডে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করে হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছিলেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় অটোরিকশায় বহনকালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অপারেশনের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন