শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, লেপ-কম্বলের নিচে থাকলেও তাদের হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। তবে মজার বিষয় হলো, পুরুষদের চেয়ে নারীরাই এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের হাত-পায়ের তাপমাত্রা পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় ২.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম থাকে।
কেন এই পার্থক্য?
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে ৪টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। নিচে তা উল্লেখ করা হল-
বিপাকীয় হারের পার্থক্য : পুরুষের শরীরে পেশির পরিমাণ বেশি থাকায় তাদের 'বেসাল মেটাবলিক রেট' নারীদের তুলনায় প্রায় ২৩% বেশি। পেশি শরীরে তাপ উৎপাদন করে, যা পুরুষদের হাত-পা উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
হরমোনের প্রভাব : নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তকে কিছুটা ঘন করে এবং প্রান্তীয় রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে। বিশেষ করে ঋতুচক্রের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে নারীরা ঠান্ডার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।
শরীরের প্রতিরক্ষা কৌশল : ঠান্ডা লাগলে মানবদেহ মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখতে চায়। নারীদের শরীর এই কাজে বেশি দক্ষ হওয়ায় হাত-পা থেকে রক্ত দ্রুত সরিয়ে মূল কেন্দ্রের দিকে নিয়ে আসে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় 'ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন' বলা হয়।
চর্বির বিন্যাস : নারীদের শরীরে সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট বা চামড়ার নিচে চর্বি বেশি থাকে। এই চর্বি শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোকে গরম রাখলেও হাত-পায়ের উপরিভাগে রক্ত চলাচলে বাধা দেয়, ফলে ত্বক ঠান্ডা অনুভূত হয়।
কখন এটি চিন্তার কারণ?
যদি ঘরোয়া পরিবেশে বা সাধারণ ঠান্ডাতেও হাত-পা নীল হয়ে যায়, অবশ লাগে কিংবা ঝিনঝিন করে, তবে এটি সাধারণ শীত নয় বরং রেনোডস ডিজিজ, রক্তস্বল্পতা বা থাইরয়েডের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
উষ্ণ থাকার উপায়:
১. নিয়মিত ব্যায়াম করা (রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে)।
২. পর্যাপ্ত আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ যুক্ত খাবার খাওয়া।
৩. হাত ও পায়ে সরিষার তেল মালিশ করা।
৪. পা ঢেকে রাখতে উলের মোজা ব্যবহার করা।


