লবণ ছাড়া খাবারের স্বাদ কল্পনা করা কঠিন। মানবদেহের স্নায়ু সচল রাখা এবং পেশির সংকোচনে লবণের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতটুকু লবণ আমাদের শরীরের জন্য উপকারী আর কতটুকু ক্ষতিকর? চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত লবণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
লবণ আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়াতে অপরিহার্য, তবে এর সঠিক পরিমাণ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে।
শরীরের জন্য কেন লবণ প্রয়োজন?
লবণে থাকা সোডিয়াম আমাদের শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সোডিয়ামের অভাবে অনেক সময় ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং পেশিতে টান লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
কতটুকু লবণ খাবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়া উচিত, যা প্রায় এক চা চামচের সমান। এই পরিমাণটি কেবল খাবারে যোগ করা লবণের ক্ষেত্রে নয়, বরং সারাদিনে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা মোট লবণের হিসাব।
পরিমিত লবণের স্বাস্থ্য উপকারিতা
১. আয়োডিনের উৎস: লবণের মাধ্যমে শরীরে পর্যাপ্ত আয়োডিন পৌঁছায়, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।
২. তরল নিয়ন্ত্রণ: শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রেখে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ করে।
৩. হজম প্রক্রিয়া: পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরিতে লবণ সাহায্য করে, যা খাবার হজমে সহায়ক।
অতিরিক্ত লবণের ঝুঁকি
লবণ বেশি খাওয়ার অভ্যাসে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা কালক্রমে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া অতিরিক্ত লবণের কারণে কিডনির সমস্যা ও হাড়ের ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) হতে পারে।
সুস্থ থাকতে লবণের ব্যবহারে ৩টি পরামর্শ
কাঁচা লবণ বর্জন করুন: খাবারের পাতে আলাদা করে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করা উচিত। রান্না করা লবণের তুলনায় কাঁচা লবণ শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন: চিপস, সস, ক্যানড ফুড এবং ফাস্টফুডে প্রচুর পরিমাণে ‘লুকানো লবণ’ থাকে। এসব খাবার কেনার আগে লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নিন।
বিকল্প স্বাদের অভ্যাস করুন: লবণের পরিমাণ কমিয়ে খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর রস, গোলমরিচ বা বিভিন্ন ভেষজ মশলা ব্যবহার করতে পারেন।
লবণকে বলা হয় ‘হোয়াইট গোল্ড’ বা শ্বেত স্বর্ণ, যদি তা পরিমিত হয়। তবে মাত্রারিক্ত হলেই এটি বিষে পরিণত হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে লবণের পরিমাণের দিকে লক্ষ্য রাখাই হবে বুদ্ধিমানে কাজ।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন