সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করলেই শরীর সব সময় সতেজ থাকে না। পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস শরীরের ঘাম এবং নিঃশ্বাসের গন্ধ নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে। কিছু খাবার যেমন শরীর থেকে প্রাকৃতিক সুগন্ধ ছড়াতে সাহায্য করে, তেমনি কিছু সাধারণ খাবার হতে পারে শরীরের উৎকট দুর্গন্ধের কারণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীরকে সুগন্ধি রাখতে কোন খাবারগুলো খাবেন আর কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন।
শরীরে সুগন্ধ তৈরি করে যে খাবারগুলো
নিজেকে প্রাকৃতিকভাবে সতেজ রাখতে ডায়েটে যোগ করতে পারেন এই খাবারগুলো:
লেবু ও সাইট্রাস ফল: লেবু, কমলা বা মাল্টার মতো সাইট্রাস ফলে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এগুলো শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, যার ফলে ঘামের দুর্গন্ধ কমে এবং শরীরে একটি সতেজ ভাব আসে।
দারুচিনি ও এলাচ: মশলা হিসেবে এলাচ ও দারুচিনি দারুণ কাজ করে। এগুলো রক্তকে পরিশোধিত করে এবং মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুগন্ধ তৈরি করে।
সবুজ চা (Green Tea): গ্রিন-টি শরীরে পলিফেনল সরবরাহ করে যা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে।
তাজা আপেল: আপেল একটি প্রাকৃতিক ডিটারজেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক দূর করে এবং নিঃশ্বাসকে রাখে দুর্গন্ধমুক্ত।
পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতার তেল বা পাতা সরাসরি চিবিয়ে খেলে তা রক্তে মিশে দীর্ঘ সময় শরীর ও নিঃশ্বাসে সুঘ্রাণ ধরে রাখে।
শরীরের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী যে খাবারগুলো
অতিরিক্ত মাত্রায় নিচের খাবারগুলো খেলে ঘাম ও নিঃশ্বাসে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি হতে পারে:
রসুন ও পেঁয়াজ: এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে। হজমের পর এই সালফার রক্তে মেশে এবং ফুসফুস ও ঘাম গ্রন্থির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়, যা তীব্র দুর্গন্ধ তৈরি করে।
লাল মাংস (Red Meat): খাসি বা গরুর মাংস হজম হতে অনেক সময় লাগে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত প্রচুর রেড মিট খান, তাদের ঘামের গন্ধ নিরামিষাশীদের তুলনায় বেশি উৎকট হয়।
ক্রুসিফেরাস সবজি: বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি শরীরের জন্য খুব উপকারী হলেও এগুলোতে থাকা সালফার ঘামের গন্ধে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল: কফি বা মদ্যপান ঘাম গ্রন্থিকে অতি সক্রিয় করে তোলে। ফলে অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং তা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে বাজে গন্ধ ছড়ায়।
প্রক্রিয়াজাত খাবার: অতিরিক্ত চিনি ও ময়দা সমৃদ্ধ খাবার শরীরের মেটাবলিজম কমিয়ে দেয় এবং ঘামে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
শরীরের প্রাকৃতিক গন্ধ ঠিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা জরুরি। পানি শরীরের বর্জ্য বের করে দিয়ে ঘামের তীব্রতা কমায়। এছাড়া সুতি কাপড় পরিধান এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে খাদ্যাভ্যাসের সুফল দ্রুত পাওয়া যায়।
আপনার খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কেবল স্বাস্থ্যের উন্নতিই করে না, বরং আপনার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। তাই শরীরকে সুগন্ধি রাখতে সতেজ ফল ও ভেষজ উপাদানের দিকে বেশি নজর দিন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন