শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কাঁধে বসে আছে ফুটফুটে এক ছোট্ট শিশু। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি ঘিরে অনেকেই ফেসবুকে দাবি করেন, শিশুটি হাদির সন্তান। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই শিশুটি শহীদ হাদির সন্তান নয়।
হাদির কাঁধে বসে থাকা ছেলে শিশুটির নাম ওমায়েত। সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকাতেই বসবাস করে। ওসমান হাদির সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে আসতেন শিশুটির বাবা। সে সময়ই একদিন শিশুটিকে নিয়ে ওসমান হাদি কাঁধে বসিয়ে ছবি তুলেন। হাদির মৃত্যুর পর ফেসবুকে ছবিটি ভাইরাল হয়, হাদির সন্তান বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
তবে শিশুটি ওসমান হাদির সন্তান নয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফারাজি। তিনি বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের ওপর হামলার পর ছবিটি অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শিশুটি হাদির নয়। ওসমান হাদির জানাজায় তার বাবার সঙ্গে শিশুটি অংশ নিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাদি ভাই একদিন আদর করে শিশুটিকে কাঁধে নিয়েছিলেন। অনেকেই ছোট্ট শিশুটিকে হাদি ভাইয়ের সন্তান মনে করছেন। তবে এটা নিশ্চিত ও আমাদের ভবিষ্যৎ হাদি হতে যাচ্ছে। ওর বাবা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন হাদি ভাইয়ের বিপ্লবের পথেই যেন ওর জীবন গড়ে উঠে।’
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় সারা দেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লাখো মানুষ জানাজায় উপস্থিতি হন। হাদির জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।

-20251220105821.webp)


