জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া বহু আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারু এখনও উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রমও ফলপ্রসূ হয়নি। এমনকি পুরস্কার ঘোষণা করে এখন পর্যন্ত একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৪০টি এখনও অনুপস্থিত। এছাড়া ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুর মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৮০টি এখনও পাওয়া যায়নি।
সূত্র বলছে, লুট হওয়া এসব অস্ত্র এখন বিভিন্ন সন্ত্রাসী, চরমপন্থী, স্থানীয় অপরাধী ও রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের হাতে চলে গেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বা ভোটের মাঠে ব্যবহার করা হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অভিযান চালাতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন এআইজি গণমাধ্যমকে জানান, লুট হওয়া অস্ত্র–গোলাবারু উদ্ধারে অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম এখনও চলছে। পুরস্কারের ঘোষণার পরও কোনো অস্ত্র জমা পড়েনি।
পুলিশ জানিয়েছে, এলএমজি (লাইট মেশিন গান) উদ্ধারের জন্য পাঁচ লাখ, এসএমজি (সাবমেশিন গান) দেড় লাখ, চায়না রাইফেল এক লাখ, পিস্তল ও শটগানের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। প্রতিটি গুলির জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বেহাত
৪৬০টি থানা ও ১১৪টি ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় পুলিশের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে।
এক হিসাবে দেখা গেছে, ১ হাজার ১১৪টি রাইফেলের (চায়না) ১১৩টি উদ্ধার হয়নি। রাইফেল-টি ০৮ (বিডি) ১২টি থেকে ১টি উদ্ধার হয়নি। এসএমজি-টি ৫৬ (চায়না) ২৫৩ থেকে ৩১টি উদ্ধার হয়নি। এলএমজি-টি ৫৬ (চায়না) ৩৮টি থেকে ৩টি উদ্ধার হয়নি। পিস্তল-টি ৫৪ (চায়না) ৫৩৯টি থেকে ২০৭টি উদ্ধার হয়নি। পিস্তল ১ হাজার ৯২ থেকে ৪৫৫টি উদ্ধার হয়নি। এসএমজি/এসএমটি ৩৩টি থেকে একটিও উদ্ধার হয়নি। ১২ বোর শটগান ২ হাজার ৭৯ থেকে ৩৯২টি উদ্ধার হয়নি। গ্যাস গান (সিঙ্গেল শট) ৫৮৯টি থেকে ১২৯টি উদ্ধার হয়নি। টিয়ার গ্যাস লাঞ্চার (সিক্স শট) ১৫টি থেকে ৭টি উদ্ধার হয়নি। সিগন্যাল পিস্তল ৩টি থেকে ২টি উদ্ধার হয়নি।
অন্যদিকে গোলাবারুদ লুটের তথ্যে দেখা গেছে, বিভিন্ন বোরের গুলি ৬ লাখ ১৩ হাজার ১৫৮টি থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৭টি উদ্ধার হয়নি। বিভিন্ন ধরনের টিয়ারগ্যাস সেল ৩১ হাজার ২১২টি থেকে ১১ হাজার ৩৯১টি উদ্ধার হয়নি। বিভিন্ন ধরনের টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ১ হাজার ৪৮৬টি থেকে ২৯১টি উদ্ধার হয়নি। সাউন্ড গ্রেনেড ৪ হাজার ৭৪৬টি থেকে ১ হাজার ১৬৮টি উদ্ধার হয়নি। কালার স্মোক গ্রেনেড ২৭৩টি থেকে ৪১টি উদ্ধার হয়নি। সেভেন/মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড ৫৫টি থেকে ২২টি উদ্ধার হয়নি। ফ্ল্যাশ ব্যাং/৬ ব্যাং গ্রেনেড ৯০০টি থেকে ২২টি উদ্ধার হয়নি। হ্যান্ড হেন্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে (ক্যানিস্টার) ১৭৮টি থেকে ১১৬টি এখনো উদ্ধার করতে পরেনি পুলিশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, লুট হওয়া যেসব অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো সমাজের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এ অস্ত্রগুলো ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশকে দ্রুত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তৌহিদুল হক জানান, লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারু এখনো উদ্ধার না হওয়ায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঝুঁকিতে আছে।
নির্বাচনকালে এসব অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে। তাই পুলিশকে দ্রুত এবং পরিকল্পিত অভিযান চালাতে হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন