১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবেন সরকারি চাকরিজীবী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং আনসার সদস্যরা। এর মধ্য থেকে কিছু কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কিছুদিন আগে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনি দায়িত্ব না দিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায় বিএনপি। একই সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও নির্বাচনি দায়িত্বে চায় না দলটি।
বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, মাদ্রাসার প্রায় সব শিক্ষক জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। তারা যদি নির্বাচনকালে দায়িত্বে থাকেন তাহলে নির্বাচন বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে জামায়াত-এনসিপি জোট বা ফ্যাসিবাদের সমর্থক অথবা ইসলামী ব্যাংকসহ জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত কোনো সংস্থার কোনো কর্মকর্তাকে নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তাদের শনাক্ত করতে অনুরোধ করেছে বিএনপি।
বিএনপির এমন অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত করা হবে না বলে জানিয়েছে ইসি। সংস্থাটি বলছে, প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে শুধু সরকারি এবং আধা সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
এদিকে সরকারি এক নির্দেশনায় নির্বাচনকালে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিষয়ে কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- নির্বাচনি দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা বা অস্বীকৃতি; দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা শৈথিল্য; কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য; নির্বাচনি কাজে ভুল, বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রদান; নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন বা বিধি ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে শাস্তির আওতায় আসবেন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
কী ধরনের শাস্তি হতে পারে
১. সাময়িক বরখাস্ত (সর্বোচ্চ দুই মাস);
২. অভিযোগ গুরুতর হলে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত;
৩. পদাবনতি;
৪. বাধ্যতামূলক অবসর;
৫. পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি দুই বছর পর্যন্ত স্থগিত।
এ ছাড়া প্রশাসনিক শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি শাস্তিরও বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি বা বাধা দিলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। কমিশনের আদেশ অমান্য করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা দুই হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন