দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর আয়কর প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণগ্রহীতা ৫১৯ জন। শুধু বিএনপিতেই ঋণগ্রহীতা ১৬৭ জন প্রার্থী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।
সুজন জানিয়েছে, মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, যা শতকরা হিসাবে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৭৫ জন প্রার্থী। ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ ছাড়া ১৩২ জন প্রার্থী কেবল টিআইএন সনদ জমা দিয়েছেন, তবে আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি।
সুজন জানিয়েছে, আয়কর প্রদানকারী ১ হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৭৯ জন, অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রার্থী ৫ হাজার টাকা বা এর কম আয়কর দিয়েছেন। এক লাখ টাকার বেশি আয়কর দিয়েছেন ৩৫৮ জন (২৭ দশমিক ১৪ শতাংশ) এবং ১০ লাখ টাকার বেশি কর দিয়েছেন ১১৬ জন প্রার্থী, যা মোটের ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর হার বেড়েছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা এবারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, ৭৪১ জন প্রার্থীর আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।
কোটি টাকার বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৫১ জন। এরপর ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন।
শীর্ষ আয়কারীদের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম, যার আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী।
তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরসহ বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের বার্ষিক আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন