দায়িত্বকালীন সময়ে নিজের সম্পদের বিস্তারিত হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই সম্পদের হিসাব তুলে ধরেন।
পোস্টে শফিকুল আলম জানান, বর্তমানে তার মালিকানায় আগের মতোই তিনটি ফ্ল্যাট, তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট এবং একই পরিমাণ কৃষিজমি রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, গত দেড় বছরে তার সম্পদের পরিমাণে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। এই সময়ে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেলেও তা নতুন কোনো সম্পদ সৃষ্টির ফল নয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে প্রেস সচিব জানান, তার নামে একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর আগে, গত বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তার সম্পদ ও আয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণীতে উল্লেখ ছিল যে, তখন ওই অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রেস সচিবের দায়িত্বে থাকার সময় তার ব্যাংক হিসাবে মোট ৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অর্থ বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে শফিকুল আলম জানান, এর মধ্যে তার শ্যালক পূর্বে নেওয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন। পাশাপাশি তার বড় ভাই রমজান মাসে দরিদ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা সাময়িকভাবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যুক্ত রয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP)-তে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি যে গ্র্যাচুইটি পেয়েছেন, সেটিই তার মূল সঞ্চয়ের উৎস। শফিকুল আলম ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এএফপিতে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত সম্পদের বিবরণীতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঢাকার শাহীনবাগে তার মালিকানায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত আরও একটি ফ্ল্যাট আছে। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী নিজ নিজ নামে ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক।
এ ছাড়া নিজ জেলা মাগুরার গ্রামে তার মালিকানায় ৪০ শতক কৃষিজমি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম আরও লেখেন, আজ আমার শেষ কর্মদিবস হতে পারে। আমি এই সরকারি পদ ছেড়ে যাওয়ার সময় ঘোষণা করছি যে, আমাদের সম্পত্তিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি তিনটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার স্ত্রী একটি ফ্ল্যাটের মালিক এবং একই জমির মালিকানা আমার কাছে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের যেকোনো ধরনের যাচাই-বাছাইকে তিনি স্বাগত জানান, এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা যেকোনো সংস্থার তদন্তে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।


