ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দায়িত্ব গ্রহণ করলেন সিআইডির নতুন প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছবি- সংগৃহীত

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) নতুন প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ (বিপিএম-সেবা) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকার সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিদায়ী সংবর্ধনা ও বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। একই অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহকে (বিপিএম, পিপিএম-সেবা) সংবর্ধনা জানানো হয়।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে আরও গতিশীল, পেশাদার ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর। সততা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সিআইডিকে একটি এপেক্স ইনভেস্টিগেশন ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে, যাতে সংস্থাটির নাম শুনলেই জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।

১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানকারী মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ তার দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুর জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতিসংঘের ডারফুর মিশনে (ইউএনএএমআইডি) পুলিশ অফিসার হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাগতভাবে তিনি অপারেশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে ইএমবিএ এবং অ্যাপ্লাইড ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ ম্যানেজমেন্টে এমএসিপিএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।

বিদায়ী সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ তার বক্তব্যে দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ৩১৩ দিনের স্বল্প সময়ে তিনি একটি দক্ষ ও সমন্বিত টিম গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রায় ৬০০টি পেন্ডিং মামলা থাকলেও তা কমিয়ে প্রায় ৫০-এ নামিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি তদন্ত কার্যক্রমে ক্রাইম সিন সুরক্ষা ও এভিডেন্স-ভিত্তিক তদন্তের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ক্রাইম সিন সুরক্ষা তদন্তের মূল ভিত্তি। ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়াতে ছয়টি আঞ্চলিক ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এবং দেশের ৬৪ জেলায় ৭৪টি ক্রাইম সিন ইউনিট গঠনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া সিআইডিতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, আধুনিক তদন্ত সহায়ক প্রযুক্তি সংযোজন এবং একটি ওয়ান স্টপ কল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদায়ী প্রধান। তিনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।