ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, যা আগে ছিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ব্যাংকিং খাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষে ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টার মধ্যে। এছাড়া দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে, যা শুক্রবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এর মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান নাসিমুল গনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকার তা সন্ধ্যা ৬টায় নির্ধারণ করেছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, কাঁচাবাজার ও জরুরি সেবার দোকানগুলো এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।

সরকার আগামী তিন মাস ব্যয় সংকোচনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সময়ে নতুন গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটারসামগ্রী কেনা বন্ধ থাকবে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি অর্থায়নে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী রোববার থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে, তবে বাণিজ্যিকভাবে আনলে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে আংশিক অনলাইন পদ্ধতি চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এতে অনলাইন ও সশরীর পাঠদানের সমন্বয় করা হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকারের এসব পদক্ষেপ জ্বালানি সাশ্রয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।