ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জয়শঙ্কর-খলিলুরের বৈঠকে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, আজ বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়েও আমরা মতবিনিময় করেছি। নিবিড় যোগাযোগে থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছি।

এদিন বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠক সম্পর্কে জানান, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এক শুভেচ্ছা সফরে দিল্লি রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি, এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনঃপ্রবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানিচুক্তির নবায়ন এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধে পদক্ষেপ।

এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রবর্তন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশটিতে মানবতাবিরোধী অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরানো, শীর্ষ নেতাদের সফর বিনিময় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন নিশ্চিতকরণ বিষয়গুলো প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে।

এ ছাড়া, আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

ভারতের মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ সরকার তার এ সফরকে শুভেচ্ছা সফর হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে। ফেব্রুয়ারির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর।

দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান আগামী ৯ এপ্রিল একই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মরিশাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। এয়ার মরিশাসের ফ্লাইটে সাত থেকে আট ঘণ্টার এ যাত্রা কূটনৈতিক দিক থেকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দুই দেশের মন্ত্রী একান্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এ কারণে দিল্লির বৈঠকের পর মরিশাসে কূটনীতিকদের মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।