× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

কম খরচে বাড়ি ফিরলেও, ১৩ জনই ফিরেছে লাশ হয়ে

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ঈদ কোন পরিবারে আনন্দের আবার কোন পরিবারে শোকের মাতন।  ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কারও হাতে ছিল সন্তানের জন্য নতুন জামা কেনার স্বপ্ন, কারও চোখে ছিল বৃদ্ধ মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর আকুতি। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না। টাঙ্গাইলের সড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল নওগাঁর ১৩টি তাজা প্রাণ।

সোমবার ভোরে টাঙ্গাইল জেলার যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে জোগারচর ১৮ নম্বর ব্রিজের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে যায়। এসময় ট্রাকের উপর থাকা যাত্রীরা ভারী রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের শিকার হন। নিহতদের মধ্যে নওগাঁ জেলার ১৩ জনের খবর পাওয়া গেলেও সরেজমিনে এখন পর্যন্ত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ছাড়াও পার্শ্ববতী রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলা এবং চাপাইনবাবগঞ্জ এর ৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যায়।

নিহতরা সবাই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি,মজিদপুর ও পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

তারা হলেন— তারেক রহমান (২১), বাদশাহ মিয়া (২৮), আব্দুল বারী (২৪), রবিউল ইসলাম (২৬), সোহাগ (২১), সাগর (২২), মাঈনুর রহমান (৩০), গিয়াস উদ্দিন ও মাঈনুল ইসলাম।

দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছাতেই রাজেন্দ্রবাটি ও পাকুরিয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। কোথাও মায়ের বুকফাটা কান্না, কোথাও স্ত্রীর আহাজারি, আবার কোথাও ছোট্ট শিশুর নির্বাক চাহনি— সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন এক বিষাদপুরীতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিহতরা সবাই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বিলে মাছ না থাকায় জীবিকার তাগিদে তারা ফেনী জেলায় গিয়ে ভাঙারি ও মানুষের চুল কেনাবেচার কাজ করতেন। ঈদকে সামনে রেখে কম খরচে বাড়ি ফেরার জন্য যাত্রীবাহী পরিবহনের পরিবর্তে রডবোঝাই ট্রাকেই রওনা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো জীবনের শেষ যাত্রা।

নিহত রবিউল ইসলামের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলেটা ফোনে কইছিল—‘মা, সকালে বাড়ি পৌঁছামু।’ এখন সে লাশ হয়ে ফিরবে!

গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ওরা গরিব মানুষ ছিল। সংসারের জন্য জীবন বাজি রেখে দূরে কাজ করতে গিয়েছিল। ঈদের আগে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি।’

এদিকে স্বজনরা নিহতদের মরদেহ গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলে গেছেন বলে জানা গেছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার জাহান সাথী জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারগুলোকে তৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

Link copied!