× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:২০ পিএম

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

এর আগে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চেয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট টুথপেস্ট বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে।

গত ২৬ জুলাই রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে থাকা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।

বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবারই প্রথম। গবেষকদের মতে, এ গবেষণার ফল ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্টের মানদণ্ড নির্ধারণ, কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট আধুনিক স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, আর ৮টিতে এ ধরনের কণা পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চার দেশেই উৎপাদিত কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। একটি নমুনায় প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দেশীয় ও আমদানি করা—উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই এ ধরনের কণা শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যদিও বাকি দুটি নমুনায় এমন কোনো কণা মেলেনি।

এ ছাড়া পরীক্ষাধীন কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে অবগত হতে পারছেন না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও এসব পণ্যের কার্যকর তদারকি জটিল হয়ে উঠছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!