× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

নির্বাচন অর্থবহ করতে সশস্ত্র বাহিনীর ‘ম্যাজিক’ দেখার অপেক্ষায় দেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

আর মাত্র ক'দিন বাদেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কখনও কখনও এই ভোট নিয়ে শঙ্কার কথা বলেন অনেকেই। যদিও স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা মোটামুটি দূর হয়েছে। কোনভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না সরকার।

এমনকি নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে যাদের সংশয় রয়েছে, তাদের 'সমুচিত জবাব' দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।’

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অ্যালবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।

প্রকৃত অর্থেই দেশের স্থিতিশীলতা, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিকল্প পথও নেই। এখনও প্রার্থীদের মাঝে নিরাপত্তার শঙ্কা রয়েছে। তবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, ভয়হীন নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ নির্বাচনকে রূপকভাবে লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো বলে মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি।'

বিগত তিনটি চরম বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ভোটাররা এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে চান। ইসির অন্যতম প্রধান লক্ষ্যও এটি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে পক্ষের সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ ভোটাররা এখন প্রার্থীদের ট্র্যাক রেকর্ড, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয় নিয়ে চূলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থানও স্পষ্ট। এবার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় ‘সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী’ যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনী ভোটের মাঠে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে পালন করবে। প্রত্যাশিত একটি সুষ্ঠু ভোট উপহার দিতে তাঁরা এবার গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার মুখোমুখি।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একই কণ্ঠে জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের স্বার্থে মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত করা এই তিন বাহিনীই সংকটকালে সাহসিকতার সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে আলোর দিশারি হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।

চরম বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্মোহ দরদ-ভালোবাসায় গৌরবময় এক ভূমিকা পালন করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশে থেকে বিজয় নিশ্চিত করা এবং দেশকে অস্তিত্ব সংকট থেকে রক্ষায় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের দৃঢ়চিত্ত নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও জাতি স্মরণ করবে। বারবার তাঁরা প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চান। টেকসই গণতন্ত্রের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর অভিপ্রায় নি:সন্দেহে বিশ্ব ইতিহাসেও একটি বিরল ঘটনা।

তবে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, অতি স্পর্শকাতর ও দেশের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চটুল গল্পে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হয়েছে, হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবে রাঙানো ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অবলীলায় স্বরচিত মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে।

প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘দীঘির জলে কার ছায়া গো’ উপন্যাসের নায়ক মুহিবের চরিত্রকেও এ চক্রটি হার মানিয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের বন্দরে নোঙরে অব্যর্থ হাতিয়ার ছিল এই সশস্ত্র বাহিনীই। তাদের বিরুদ্ধে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসিত করার একটা নীলনকশা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা হয়েছিল বেশ কয়েক দফা। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ও তিন বাহিনী প্রধানের অমিত দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতায় সেই অপপ্রয়াস ভেস্তে গেছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বহুবার। প্রশংসা করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা, অগ্রগতি, জাতি গঠন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয়। প্রধান উপদেষ্টার এমন আহ্বানেই পরিস্কার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি এটি অনুধাবণ করতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য ও যুক্তিযুক্ত মতামতে নজর রাখলেই যথেষ্ট। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আশাবাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বাস্তবতারও মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার একটিই প্রত্যাশা-আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও গণভোটের মাধ্যমে নতুন পথে যাত্রা করবে বাংলাদেশ। আর কখনও পথ হারাবে না।

সরকারের আরও একটি সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। শুধু নির্বাচন পর্যন্ত নয়, নির্বাচনের পরও সশস্ত্র বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকছে। তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে আরও আগেই। জন-আকাঙ্ক্ষার তাগিদ, বাস্তবতা ও সক্ষমতা বুঝেই সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তাবোধ করেই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আশান্বিত ও উজ্জীবিত করেছে ত্রয়োদশ ভোটে বড় ফ্যাক্টর তরুণ ভোটারদেরও।

চার কোটির বেশি তরুণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিবেন। তরুণদের একটি বড় অংশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত বা অন্ধভাবে সমর্থন করেন না। তারা মূলত প্রার্থীর যোগ্যতা, দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে শেষ মুহূর্তে কাউকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গুরুত্বপূর্ণ এসব ভোটাররা ফলাফলে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে তাঁরাই হতে পারেন 'কিংমেকার'। তাঁরাও অনুভব করেন ভোটের মাঠের পরিবেশ অনুকূলে রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা।

একাধিক নতুন ভোটারের ভাষ্য হচ্ছে-সরকার যখন সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়েছে তখনই একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজেদের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে-পরে সশস্ত্র বাহিনী জাতিকে একটি সুন্দর আগামীর পথ দেখিয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অন্তত নিজের ভোট নিজেই প্রয়োগ করার আশা সঞ্চার হয়েছে।

দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনী আগের মতো এবারও সংকটে নির্মোহ ও দেশপ্রেমিকের হৃদয় নিয়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অতীতের প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে দিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ, চিন্তা-দর্শন, মানবাধিকার সুরক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অনেক জটিল পরিস্থিতির সমাধান করেছে। যা অনেকের কাছে ছিল অকল্পনীয়, সহজ ছিল না মোটেও। ত্রয়োদশ ভোটকেও অর্থবহ করতে এবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের ‘ম্যাজিক’ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Link copied!