× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান

প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

মতভেদেও সহাবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর নতুন রাজনৈতিক বার্তা

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান

প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

পুরনো দিনের বয়ান, রেওয়াজ ভেঙেছেন প্রতিনিয়ত। রাজনীতিতে তৈরি করেছেন নতুন ধারা। দেশকে মিলেমিশে গড়ে তোলার ব্রত নিয়েছেন। উদারনৈতিক গণতন্ত্রের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করেন ‘এগ্রি টু ডিসএগ্রি’ বা ভিন্নমতে একমত নীতিতে। ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রতিপক্ষকে তাচ্ছিল্য করার রাজনৈতিক ভাষার একপ্রকার স্বাভাবিক নিয়মও তার নিজের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যে অনুপস্থিত। তার ভাষা আক্রমণাত্মক নয়। ছড়ায় না ঘৃণা। কখনও অতিক্রম করে না সহনশীলতার সীমা। দৃঢ়তা ও সংযমের অভূতপূর্ব সমন্বয় রয়েছে নেতৃত্বে। সহিংসতা, দমন-পীড়নের চেনা সংস্কৃতির ইতি ঘটিয়ে মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক দেশ গড়তে চান।

শক্তি নয় যুক্তিকে বড় করে দেখেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি হিসেবে ভোটে জনজোয়ারে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও গণতান্ত্রিক রূপান্তর যাত্রায় বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনিই সম্ভবত প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি স্পিকার ও বক্তার মাঝখান দিয়ে না গিয়ে পেছনের একটি আসনে বসে সংসদীয় রীতি মেনে চলারও নজির দেখিয়েছেন। সংসদ নেতা হিসেবে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এভাবেই বারবার তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের শুভ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

যিনি সুশৃঙ্খল ও জনকল্যাণমুখী করেছেন নিজের নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ‘এই সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ’- তার এমন বলিষ্ঠ উচ্চারণ কেবল একটি বক্তব্য হয়ে থাকেনি এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির আকাশে সুবাতাস ও নতুন দিগন্তের শুরু করেছে। যা তাকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। একটি আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের উভয়ের সংসদ সদস্যের কাছে এটি হতে পারে অনন্য আবেগের দলিলও। যা জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সোনালী স্বপ্নের দিকে ধাবিত করতে পারে দেশকে। দেশের সংসদীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়ে বাংলাদেশের বিজয় কেতন উড়ানোর মাধ্যমে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই তারেক রহমান যেন বুঝিয়ে দিলেন রাজনীতি কেবলই ক্ষমতা নয়। ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না করে জবাবদিহিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আলাপ-আলোচনা, তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদেই বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের সমাধান সম্ভব। গত দেড় দশকের স্তুতির বদলে গঠনমূলক বিতর্কে তাই এবারের সংসদের অধিবেশন ছিল উত্তপ্ত, প্রাণবন্ত ও সরগরম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর থেকেই সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানের বিনয়, সহমর্মিতা, মানবিকতা ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ আলোচনার মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে। এই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব’ ছিল সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ আগ্রহের। দেশের মানুষও ইউটিউবে ফেসবুকে উৎসাহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেখেছেন, শোনেছেন। প্রথম ও সমাপনী দিনে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আবেগতাড়িত হয়েছেন আবার দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। রাজধানীর রাজনৈতিক অলিন্দ পেরিয়ে তার গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন, ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পরিকল্পনা, সংঘাত নয় ঐক্য এখন আলোচনার ভরকেন্দ্র। প্রায় সবাই আশাবাদের চোখে দেখছেন মাঠের রাজনৈতিক নেতা থেকে একজন প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ককে।

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রধানমন্ত্রী। তার হাত ধরেই প্রায় তিন দশক পর নতুন একজন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতির দুঃসময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করেছেন। একটি অর্থবহ এবং শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য কার্যকর এবং ভারসাম্যপূর্ণ সংসদ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫ কর্মদিবসে যার ছাপ ছিল স্পষ্ট। ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতৃত্ব’ হিসেবে যেখানে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বিরোধী দলকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নিত্যদিন ১৮ ঘণ্টা বিরামহীন কাজ করছেন। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য রাখার প্রস্তাব ও ১০ সদস্যের কমিটির মধ্যে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম। ঐতিহাসিক এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেশের এই ঐক্যের প্রতীক জাতীয় সমস্যা সমাধানে সংসদকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রূপান্তরিত করেছেন। অস্থিতিশীলতা নয় জাতীয় ঐক্যই যেকোন সংকট সমাধানে হতে পারে প্রধান হাতিয়ার। সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা বলতে দ্বিধা করেননি-‘আপনারা (বিরোধী দল) ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।’ সহনশীলতার চর্চা জারির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবন ‘বঙ্গভবনের’ পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব নিয়েই গতানুগতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগ ও পদক্ষেপকে দৃশ্যমান করেন। প্রতিহিংসার কফিনে পেরেক ঠুকেছেন। বিরোধীদের শত্রু হিসেবে না দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার মানসিকতা তার। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাবা ও মায়ের মতোই ভাষার সংযত ব্যবহার, রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও শিষ্টাচারের চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

গণতান্ত্রিক উত্তরণের চূড়ান্ত সোপানে চ্যালেঞ্জ সামলে জনগণের আস্থা অর্জনে সর্বোচ্চ মনোযোগী হয়েছেন। আকাশচুম্বী প্রত্যাশার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটি তাই তার কাছে আরামদায়ক নয় মোটেও। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় নিজের চেয়ারের বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করে বললেন, ‘এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি জায়গা। এই চেয়ারে বসলে আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি যে আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে। এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তাকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক বা রাইট ডিসিশনটি নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর মন্ত্রীদের জন্য ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন তারেক রহমান। এই সময়সীমার মধ্যে মন্ত্রীদের কাজ, দক্ষতা, বাস্তবায়ন ক্ষমতা এবং জনমুখী উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার এবং জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গ্রামবাংলার কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে ‘কৃষক কার্ড’। খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ‘ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাফেরা’ করছেন। সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে কাজ করে চলেছেন। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতোই পায়ে হেঁটে গ্রামে ছুটছেন। জনগণের সঙ্গে আত্মিক মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তিনি বয়স ভুলে শিশুদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন, খুনসুটিতে মেতে উঠছেন। বাবা শূন্য থেকে একটি জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সন্তান তারেক রহমানও বাবার পথেই আছেন। ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দিন-রাত একাকার করেছেন। দেশ পরিচালনাকে যিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখেন দায়িত্ব হিসেবেই। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে তাকে সফল হতেই হবে।

লেখক : পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Link copied!