পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সারাদেশে মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, শহর ও জেলা শাখাগুলো সমন্বিতভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ প্রেরিত এক বার্তায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, রমজানকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, নৈতিক চর্চা এবং মানবসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে চায়। সে লক্ষ্যেই মাসজুড়ে বিভিন্ন ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির সূচনালগ্নে শাখাভিত্তিক স্বাগত র্যালির আয়োজন করা হবে, যেখানে রমজানের তাৎপর্য ও সংযমের বার্তা তুলে ধরা হবে।
এছাড়া শহীদ পরিবার, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে ইসলামের দাওয়াতমূলক বার্তা সম্বলিত গ্রাফিতি বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তরুণ সমাজ নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়।
ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করতে বিষয়ভিত্তিক আয়াত-হাদিস ও সূরা মুখস্তকরণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্থসহ পবিত্র কুরআন উপহার প্রদান করা হবে। মসজিদভিত্তিক সহিহ কুরআন প্রশিক্ষণ, দারসুল কুরআন এবং নিয়মিত হাদিস পাঠের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে রমজানের আত্মশুদ্ধির চর্চা আরও সুদৃঢ় হয়।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এতিম, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের নিকট রমজান ক্যালেন্ডার ও রমাদান ম্যানুয়াল বিতরণ করা হবে, যাতে তারা সিয়াম সাধনা সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে পারেন।
এছাড়া ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তা তুলে ধরা হবে। বক্তারা আত্মসংযম, সময়ের সদ্ব্যবহার, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনা করবেন।
সংগঠনটির দাবি, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা প্রসার, মানবসেবা কার্যক্রম জোরদার এবং সমাজে সম্প্রীতি ও ইতিবাচক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। রমজান মাসজুড়ে দেশব্যাপী এই কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


