ইরানে হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকরা জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির দেন সংগঠনের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও ওআইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইরানে হামলার পেছনে একাধিক শক্তিধর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিশ্বব্যাপী ধারণা রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক আইন সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের পর থেকে দেশটিকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে নিন্দা প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শক্তিধর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছোট রাষ্ট্রের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল ইরানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। তার মতে, এ ধরনের সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।
চুয়াডাঙ্গায় হত্যার প্রতিবাদ
সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিও জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং আরও কয়েকজনকে আহত করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন