গভীর শোক ও বেদনার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনার মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়, তা ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতীক।
এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা জানান, ২৫ মার্চের কালরাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং পিলখানায় অবস্থানরত ইপিআর সদস্যদের ওপর আক্রমণে অসংখ্য নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারান। নারী, শিশু, প্রবীণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এই বর্বরতার শিকার হন।
তিনি উল্লেখ করেন, দমন-পীড়নের এই নির্মম অধ্যায় বাঙালির সংগ্রামী চেতনাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং সেখান থেকেই প্রতিরোধের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধে রূপ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির অস্তিত্বের ভিত্তি এবং ন্যায় ও মর্যাদার সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস।
বার্তায় আরও বলা হয়, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গণহত্যা দিবসে এনসিপি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
পরিশেষে, সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।


