মালয়েশিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপির কর্মীরা। একইসঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং হাইকমিশনের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) মালয়েশিয়া বিএনপির কর্মীদের পক্ষ থেকে নাসির উদ্দিন নাসির ও মোহাম্মদ মিনহাজ মন্ডলের তত্ত্বাবধানে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের দূতালয় প্রধানের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় নেতৃবৃন্দরা দাবি করে বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। তাকে প্রকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যা নিয়ে এখনো জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়ে গেছে। এ রহস্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, ৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করা হয়- প্রয়াত খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কথিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আস্থাভাজনদের মাধ্যমে দুর্নীতি মামলায় জড়ানোর কারিগর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্যকে প্রত্যাহার করে শাস্তির আওতায় আনা। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
দুর্নীতিবাজ, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অর্থের বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারকারী, অদক্ষ এবং কথিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামী দোসর হিসেবে অভিযুক্ত কূটনৈতিক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল করিম, ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা, শ্রম বিভাগের প্রথম সচিব সৈয়দ শরীফুল ইসলামসহ সব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে হাইকমিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবি করা হয়। এ ছাড়া শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ, মালয়েশিয়ায় নারী ও মানবপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একইসঙ্গে কারাগারে আটক প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবিক বিবেচনায় দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টির দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় স্মারক লিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিনহাজ মন্ডল, মালয়েশিয়া শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রাজু ইমন আলী হানিফ, মো. ফারুক হোসেন, মো. মেহেদি হাসান, মো. আজিম হোসেন, মো. তনু সর্দার, মো. খোকন মিয়া, মো. সোহেল খন্দকার, মো. আব্দুর রহিম, মো. শামিম উল্লাহসহ আরও অনেকে।


