ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বেনামাজির রোজা কি কবুল হয়?

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ইসলামে নামাজ হলো দ্বিতীয় স্তম্ভ, যা ইমানের প্রধান চিহ্ন। নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ এবং এর ফলে রোজার সওয়াব বা কবুলিয়াত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পূর্ণ সওয়াব ও রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আবশ্যক। 

প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে শাক্বিক রাহিমাহুমুল্লাহ বলেছেন: “নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণ নামাজ ছাড়া অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না।”

“ফাতাওয়াস সিয়াম” (পৃ-৮৭) গ্রন্থে এসেছে শাইখ ইবনে উছাইমীনকে বেনামাজির রোজা রাখার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেন: বেনামাজির রোজা শুদ্ধ নয় এবং তা কবুলযোগ্য নয়। কারণ নামাজ ত্যাগকারী কাফের, মুরতাদ। এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে--

আল্লাহ্‌ তায়ালার বাণী:

( فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ) 

“আর যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে ও জাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের দিনি ভাই।”

—সুরা আত্‌ তওবা: ১১

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:

( بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاةِ ) 

“কোনো ব্যক্তির মাঝে এবং শির্‌ক ও কুফরের মাঝে সংযোগ হচ্ছে সালাত বর্জন।” সহিহ মুসলিম (৮২)

এবং 
( الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ) . صححه الألباني في صحيح الترمذي

“আমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি হলো নামাজের। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।”

জামে তিরমিযী (২৬২১), আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলে চিহ্নিত করেছেন।

এই মতের পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ‘ইজমা’ সংঘটিত না হলেও সর্বস্তরের সাহাবিগণ এই অভিমত পোষণ করতেন।

ইমাম বুখারী (৫২০) বুরাইদা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ )

“যে ব্যক্তি আছরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।”

“তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়”-এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাজির কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাজি তার আমল দ্বারা কোনোভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না।

ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ (পৃ-৬৫) নামক গ্রন্থে এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন – “এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, নামাজ ত্যাগ করা দুই প্রকার:

(১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা। কোনো নামাজই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে।
(২) বিশেষ কোনোদিন বিশেষ কোনো নামাজ ত্যাগ করা। এ ক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে সালাত ত্যাগ করলে তার সার্বিক আমল বিফলে যাবে। আর বিশেষ নামাজ ত্যাগ করলে বিশেষ আমল বিফলে যাবে।

অধিকাংশ আলেমদের অভিমত, নামাজ ছাড়া রোজা রাখলে তা কারিগরিভাবে বা বাহ্যিকভাবে আদায় হয়ে গেলেও, মহান আল্লাহর দরবারে তা কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা কম। নামাজ ছাড়া রোজা কেয়ামতের দিন আল্লাহ্‌র কাছে কোনো উপকারে আসবে না।

সূত্র: হাদিসবিডি