ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হজ পালনে ইহরাম অবস্থায় যে কাজগুলো নিষিদ্ধ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
হজ পালনে ইহরাম অবস্থায় যে কাজগুলো নিষিদ্ধ। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র হজ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মক্কায় সমবেত হন। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ‘ইহরাম’ বাঁধার মাধ্যমে। তবে ইহরাম অবস্থায় পৌঁছানোর পর হাজিদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ সময়ে বৈধ। হজের শুদ্ধতা রক্ষায় এই বিধিনিষেধগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রতিটি হজযাত্রীর জন্য আবশ্যক।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ইহরাম অবস্থায় মূলত তিন ধরনের নিষিদ্ধ কাজ রয়েছে: যা সবার জন্য প্রযোজ্য, যা শুধু পুরুষদের জন্য এবং যা শুধু নারীদের জন্য।

১. সবার জন্য সাধারণ নিষিদ্ধ কাজ:
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ইহরাম অবস্থায় নিচের কাজগুলো করা নিষিদ্ধ:

চুল ও নখ কাটা: শরীরের কোনো অংশের চুল কাটা, ছাঁটা বা উপড়ে ফেলা এবং নখ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সুগন্ধি ব্যবহার: শরীরে, কাপড়ে বা খাবারে কোনো ধরনের সুগন্ধি (আতর, সেন্ট, সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা তেল) ব্যবহার করা যাবে না।

শিকার করা: কোনো বন্য প্রাণী শিকার করা বা শিকারে কাউকে সাহায্য করা নিষিদ্ধ। এমনকি মক্কার হারাম শরিফ এলাকার কোনো গাছ বা ঘাস কাটাও অপরাধ।

অশ্লীল আচরণ ও ঝগড়া: কোনো ধরনের অশ্লীল কথাবার্তা, গালিগালাজ বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া হজের পবিত্রতা নষ্ট করে। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

বিবাহ বন্ধন: ইহরাম অবস্থায় নিজে বিয়ে করা বা অন্যের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বা বিয়ে পড়ানো নিষিদ্ধ।

যৌন সম্পর্ক: স্বামী-স্ত্রীর মিলন বা এ সংক্রান্ত যেকোনো উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ হজের প্রধান অন্তরায় এবং এর ফলে হজ বাতিলও হয়ে যেতে পারে।

২. পুরুষদের জন্য বিশেষ নিষেধ:
সেলাই করা কাপড়: পুরুষদের জন্য শরীরের গঠন অনুযায়ী তৈরি বা সেলাই করা পোশাক (যেমন- শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি, গেঞ্জি) পরা নিষিদ্ধ। তাদের কেবল দুটি সাদা সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করতে হয়।

মাথা ও কান ঢাকা: টুপি, পাগড়ি বা রুমাল দিয়ে মাথা ও কান ঢাকা যাবে না। তবে ছাতা ব্যবহার করা বা ছায়ার নিচে থাকা বৈধ।

আবদ্ধ জুতো: পায়ের ওপরের হাড় ঢেকে যায় এমন জুতো বা মোজা পরা যাবে না। চটি বা স্যান্ডেল ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।

৩. নারীদের জন্য বিশেষ নিষেধ:
মুখমণ্ডল ঢাকা: ইহরাম অবস্থায় নারীরা সাধারণ পোশাক পড়বেন, তবে তারা নেকাব দিয়ে সরাসরি মুখমণ্ডল ঢাকতে পারবেন না। পরপুরুষের সামনে পর্দা বজায় রাখতে মাথার ওপর থেকে কাপড় ঝুলিয়ে মুখ আড়াল করার বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বনের অনুমতি রয়েছে।

হস্তমোজা পরা: হাত মোজা বা হ্যান্ড গ্লাভস পরা নারীদের জন্য নিষিদ্ধ।

যদি কোনো হাজি ভুলবশত বা বাধ্য হয়ে এসব নিষিদ্ধ কাজের কোনোটি করে ফেলেন, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট `ফিদইয়া' বা কাফফারা দিতে হয়। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী এটি হতে পারে কোরবানি দেওয়া, নির্দিষ্ট সংখ্যক দরিদ্রকে খাবার খাওয়ানো অথবা রোজা রাখা।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য হজ একটি আধ্যাত্মিক সফর। তাই এই পবিত্র সফরের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালন করা এবং সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা একান্ত জরুরি।