ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সেহরির সর্বোত্তম সময় ও নিয়ম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
সেহরির সর্বোত্তম সময় ও নিয়ম। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি বিধান অনুযায়ী রোজা রাখার আগে সেহরি গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কেবল শারীরিক শক্তির জন্যই নয়, বরং আধ্যাত্মিক বরকত লাভের জন্য সেহরি খাওয়ার বিশেষ তাকিদ দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার জন্য শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে সেহরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি বিধান এবং পুষ্টিবিজ্ঞান উভয় দিক থেকেই সেহরির সময় এবং ধরন নিয়ে বিশেষ কিছু নির্দেশনা রয়েছে।

১. সেহরিতে নিহিত বরকত
সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি বিশেষ কল্যাণ ও বরকত লাভ করেন। সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় (হাদিস নং: ১০৯৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: ‘তোমরা সেহরি গ্রহণ করো, কেননা সেহরির খাবারে বরকত নিহিত রয়েছে।’

২. সামান্য খাবার বা এক ঢোক পানিতেও সুন্নাহ পালন
অনেকের ধারণা সেহরিতে প্রচুর পরিমাণে খাবার খেতে হবে, যা সঠিক নয়। পেট ভরে খাওয়া সেহরির শর্ত নয়; বরং সুবহে সাদেকের আগে সামান্য কিছু মুখে দিলেও এই সুন্নাত আদায় হয়ে যায়। হাদিস শরিফে এসেছে, যদি কারও খাবারের ক্ষুধা না-ও থাকে, তবে অন্তত এক ঢোক পানি পান করে হলেও যেন সেহরি করা হয়।

৩. আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া
সেহরি খাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে মুসনাদে আহমাদ ও সহিহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনা অনুযায়ী: যারা সেহরি খায়, মহান আল্লাহ তাদের ওপর বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীদের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করতে থাকেন।

৪. ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তম সময়
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সেহরির সময় নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে একেবারে শেষ সময়ে খাওয়া সুন্নত।

বিলম্বিত সেহরি: রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ফজরের আজানের ঠিক আগে আগে সেহরি গ্রহণ করতেন। মুমিনদের জন্য নির্দেশনা হলো, সুবহে সাদেকের ঠিক আগ মুহূর্তে সেহরি করা।

বরকতপূর্ণ খাবার: শেষ সময়ে সেহরি করার মধ্যে বরকত রয়েছে। এটি রোজা পালনের কষ্ট কমিয়ে দেয় এবং শরীরে শক্তি জোগায়।

৫. স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে উপকারিতা
পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরি দেরিতে করার বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে:

রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা: রাতে অনেক আগে সেহরি করে ঘুমালে পরদিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। কিন্তু শেষ সময়ে খেলে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তির জোগান পায়।

ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করা: দেরিতে সেহরি করলে সারাদিন মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা ঝিমুনি ভাব কম হয়।

পাচনতন্ত্রের সুরক্ষা: খেয়েই সরাসরি দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে পড়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শেষ সময়ে সেহরি করলে এরপর ফজরের নামাজ ও দিনের স্বাভাবিক কাজ শুরু হয়, যা খাবার হজমে সহায়তা করে।

সেহরি খাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের জন্য শক্তি অর্জন করা। তাই আজানের অনেক আগে খেয়ে নেওয়া বা আলসেমি করে সেহরি না খেয়ে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সুবহে সাদিক বা ফজরের আজানের ২০-৩০ মিনিট আগে খাওয়া শুরু করে আজানের ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ করাই হলো সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি। তাই সওয়াব এবং বরকত থেকে বঞ্চিত না হতে চাইলে সামান্য পানি পান করে হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতটি পালন করা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য বাঞ্ছনীয়।