মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজের পর ঈদগাহে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করার দৃশ্যটি অত্যন্ত সাধারণ ও আনন্দময়। তবে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, ইসলামি শরিয়তে ঈদের বিশেষ সুন্নাত হিসেবে কোলাকুলির ভিত্তি কতটুকু?
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদের মূল উদ্দেশ্য হলো আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং পারস্পরিক শত্রুতা ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা। একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা (হাত মেলানো) এবং মোয়ানাকা (কোলাকুলি) করা মূলত ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ।
সুন্নাত নাকি সংস্কৃতি?
ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে ঈদের নামাজের পর কোলাকুলি করাকে ‘আবশ্যক’ বা ঈদের বিশেষ কোনো ‘সুন্নাত’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় সাহাবায়ে কেরাম দীর্ঘ সফর থেকে ফিরে এলে বা দীর্ঘদিন পর দেখা হলে কোলাকুলি করতেন।
তবে ঈদের দিন নামাজের পর নিয়ম করে কোলাকুলি করাকে অনেক আলেম ‘জায়েজ’ বা ‘মুস্তাহাব’ (পছন্দনীয়) আমল হিসেবে দেখেন। তাঁদের মতে, এটি সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে এবং মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে। যদি কেউ একে ইবাদত মনে না করে কেবল আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে করে, তবে এতে কোনো বাধা নেই।
সতর্কতা ও আদব
১. জোরপূর্বক নয়: কেউ কোলাকুলি করতে না চাইলে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।
২. অসুস্থতা: ছোঁয়াচে কোনো রোগ বা অসুস্থতা থাকলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা (সতর্কতা)।
৩. ইবাদত মনে না করা: কোলাকুলি না করলে ঈদের নামাজ হবে না বা সওয়াব হবে না, এমন ধারণা রাখা যাবে না। এটি মূলত একটি সুন্দর সামাজিক শিষ্টাচার।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বৈধ এবং প্রশংসনীয় সামাজিক প্রথা। এটি কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদত না হলেও মুমিনের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি মমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে, যা ইসলামের অন্যতম মূল শিক্ষা।


