মানবচরিত্রের দুটি বিপরীতমুখী গুণ হলো দানশীলতা ও কৃপণতা। ইসলামি শরিয়তে দানশীলতাকে মুমিনের ভূষণ এবং কৃপণতাকে চারিত্রিক স্খলন ও ঈমানের পরিপন্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পাতায় পাতায় বর্ণিত হয়েছে এই দুই গুণের সুদূরপ্রসারী পরিণতির কথা।
দানে কমে না সম্পদ, বাড়ে বরকত
অনেকেই মনে করেন দান করলে সম্পদ কমে যায়, কিন্তু ইসলামের শিক্ষা সম্পূর্ণ উল্টো। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন: “তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন। তিনি উত্তম রিযিকদাতা।” (সূরা সাবা, আয়াত: ৩৯)
রাসূলুল্লাহ (সা.) কসম করে বলেছেন, “সাদকা বা দানে কখনো সম্পদ কমে না।” (তিরমিজি)। বরং দান সম্পদকে পবিত্র করে এবং তাতে অলৌকিক বরকত দান করে।
কৃপণতা ঈমানের পথে অন্তরায়
কৃপণতা বা বখিলতা কেবল টাকা জমিয়ে রাখা নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত থেকে অন্যকে বঞ্চিত করা। ইসলামি স্কলারদের মতে, একজন প্রকৃত মুমিন কখনো কৃপণ হতে পারে না। হাদিসে এসেছে: “কোনো বান্দার অন্তরে ঈমান ও কৃপণতা একত্রে অবস্থান করতে পারে না।” (নাসায়ি) কৃপণতা মানুষের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই অন্ধকার করে দেয়। এটি সমাজ থেকে দয়া-মায়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ উঠিয়ে দেয়।
দানের ফজিলত ও উপকারিতা
১. গুনাহ মাফ: পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়, দান তেমনি মানুষের গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।
২. বিপদ থেকে মুক্তি: দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর বিশেষ হেফাজতে থাকেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, “গোপন দান আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে।”
৩. জান্নাতের পথ: দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, মানুষের নিকটবর্তী এবং জান্নাতের নিকটবর্তী।
কৃপণতার ভয়াবহ পরিণতি
পবিত্র কুরআনে কৃপণদের সতর্ক করে বলা হয়েছে: “আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে যে এটা তাদের জন্য মঙ্গল। বরং এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। তারা যা নিয়ে কৃপণতা করেছে, কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০)
ইসলামের শিক্ষা: মধ্যপন্থা অবলম্বন
ইসলাম কেবল অকাতরে দান করতেই বলেনি, বরং ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নিজের পরিবার ও প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত অংশ থেকে দান করা এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় ও কৃপণতা, এই দুইয়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করাই হলো ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।
পরিশেষে, ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য কৃপণতা পরিহার করে দানশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। দান কেবল অর্থ দিয়েই নয়, বরং সুন্দর ব্যবহার, ভালো পরামর্শ এবং বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেও হতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কৃপণতামুক্ত হৃদয় এবং দানশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন।


