ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইসলামে নারীর পর্দার বিধান: সুরক্ষা, সম্মান ও আত্মপরিচয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ইসলামে নারীর পর্দার বিধান। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে নারীর পর্দার বিধান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়। ইসলামে পর্দা বা হিজাব কেবল একটি পোশাকের নাম নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে নারীর পর্দার বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো তার সম্মান রক্ষা করা এবং সমাজে একটি মার্জিত পরিবেশ বজায় রাখা।

১. পর্দার মূল ভিত্তি: কুরআন ও সুন্নাহ
পর্দার বিধান সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। পবিত্র কুরআনের দুটি প্রধান সূরায় (সূরা আন-নূর এবং সূরা আল-আহজাব) এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দৃষ্টির পর্দা: আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষ উভয়কেই প্রথমে তাদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পোশাকের পর্দা: আল্লাহ বলেন, “হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না।” (সূরা আল-আহজাব: ৫৯)

২. পর্দার শর্তাবলি (শরয়ী নীতিমালা)
পর্দা বা হিজাব কার্যকর হওয়ার জন্য ইসলামী আইনবিদগণ (ফুকাহা) কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছেন:
১. পুরো শরীর ঢাকা: মাহরাম (যাদের সামনে যাওয়া জায়েজ) পুরুষ ছাড়া অন্যদের সামনে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি বাদে পুরো শরীর ঢাকা থাকতে হবে। (মুখমণ্ডল ঢাকার বিষয়ে ওলামাদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তা উত্তম ও নিরাপদ মনে করা হয়)।
২. ঢিলেঢালা পোশাক: পোশাক এমন আঁটসাঁট হতে পারবে না যাতে শরীরের গঠন প্রকাশ পায়।
৩. অস্বচ্ছ হওয়া: পোশাকটি পাতলা হওয়া যাবে না যার ভেতর দিয়ে চামড়া দেখা যায়।
৪. পুরুষের অনুকরণ না করা: পোশাকটি যেন পুরুষের পোশাকের মতো না হয়।

৩. মাহরাম ও অ-মাহরাম (যাদের সামনে পর্দা নেই)
ইসলামে পর্দা কাদের সঙ্গে করতে হবে এবং কাদের সামনে পর্দা করার প্রয়োজন নেই, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা সূরা আন-নূরে দেওয়া হয়েছে।

যাদের সামনে পর্দা নেই: বাবা, ভাই, স্বামী, শ্বশুর, নিজের ছেলে, ভাতিজা, ভাগ্নে প্রমুখ (মাহরাম)।

যাদের সামনে পর্দা জরুরি: চাচাতো ভাই, খালাতো ভাই, দেবর, দুলাভাই এবং সাধারণ অপরিচিত পুরুষ।

৪. আধুনিক সমাজ ও পর্দার দর্শন
অনেকে পর্দাকে কেবল একটি ‘আবরণ’ মনে করেন, কিন্তু এর পেছনে গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দর্শন রয়েছে:

মর্যাদা ও সম্মান: পর্দা নারীকে কেবল একটি পণ্য হিসেবে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে তার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে।

নিরাপত্তা: এটি অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি এবং উত্যক্তকরণ থেকে নারীকে সুরক্ষা দেয়।

পারিবারিক শৃঙ্খলা: পর্দার বিধান মানলে সমাজে চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় থাকে এবং পারিবারিক কাঠামো শক্তিশালী হয়।

৫. পর্দা কি কেবল পোশাকে?
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, পোশাকের পর্দার পাশাপাশি ‘আচরণগত পর্দা’ও সমান জরুরি। নম্রভাবে কথা বলা, জনসমক্ষে চলাফেরায় গাম্ভীর্য বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা এড়িয়ে চলা-সবই পর্দার অংশ।