ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী পুরুষের দাড়ি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এটি ইসলামের আদিম সুন্নাত বা ‘ফিতরাত’-এর অন্তর্ভুক্ত এবং মুসলিম পুরুষের স্বকীয়তার প্রতীক।
১. দাড়ি রাখার শরয়ী বিধান
অধিকাংশ ইসলামী আইনবিদ এবং চার মাযহাবের ইমামগণের মতে, দাড়ি রাখা 'ওয়াজিব' বা অপরিহার্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ: বুখারি ও মুসলিমসহ হাদিসের প্রধান গ্রন্থগুলোতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তোমরা মোচ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো।"
বিজাতীয়দের অনুকরণ পরিহার: দাড়ি রাখার মাধ্যমে মুসলিমরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখে এবং অগ্নিউপাসক বা অন্যদের থেকে ভিন্ন হয়, যা হাদিসে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. দাড়ির পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত?
দাড়ির দৈর্ঘ্য নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামগণের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে: শরীয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী, এক মুষ্টি (চার আঙ্গুল পরিমাণ) দাড়ি রাখা সুন্নাত। এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখা বা দাড়ি একেবারে কামিয়ে ফেলা (শেভ করা) অধিকাংশ আলেমের মতে নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ।
৩. দাড়ি কি কেবল একটি সুন্নাত?
অনেকে মনে করেন এটি কেবল একটি ঐচ্ছিক সুন্নাত, যা না করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামে দাড়ি রাখা এমন একটি সুন্নাত যা পালন করা ওয়াজিবের পর্যায়ে পড়ে। কারণ: এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আজীবন আমল ছিল। তিনি নিজে দাড়ি কাটার অনুমতি দেননি।
এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিআর বা নিদর্শন।
৪. আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে? (স্বাস্থ্যগত দিক)
যদিও একজন মুমিন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দাড়ি রাখে, তবে আধুনিক বিজ্ঞানও এর কিছু উপকারিতা খুঁজে পেয়েছে:
ত্বকের সুরক্ষা: দাড়ি সরাসরি সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে গাল ও চিবুকের ত্বককে রক্ষা করে, যা স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
ইনফেকশন রোধ: বারংবার শেভ করার ফলে ত্বকে যে সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হয়, দাড়ি রাখলে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ধুলোবালি থেকে বাঁচা: দাড়ি নাকের ছিদ্রপথের মাধ্যমে ধুলোবালি বা অ্যালার্জেন প্রবেশে বাধা হিসেবে কাজ করে।
৫. দাড়ি রাখার আধ্যাত্মিক সুফল
দাড়ি একজন মুমিনকে সবসময় তার পরিচয় মনে করিয়ে দেয়। এর ফলে অনেক সময় মানুষ ছোটখাটো গুনাহ বা অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারে, কারণ তার অবয়বে ইসলামের ছাপ বিদ্যমান থাকে।


