ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হজের ইহরাম অবস্থায় যা করা হাজিদের জন্য নিষিদ্ধ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
হজের ইহরাম অবস্থায় যা করা হাজিদের জন্য নিষিদ্ধ। ছবি : সংগৃহীত

হজ ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ফরজ ইবাদত। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ‘ইহরাম’ বাঁধার মাধ্যমে। ইহরাম কেবল একটি নির্দিষ্ট পোশাক নয়, বরং এটি একটি বিশেষ অবস্থা- যেখানে প্রবেশের পর স্বাভাবিক সময়ের অনেক বৈধ কাজও হজযাত্রীদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এসব নিষিদ্ধ কাজ করার ফলে হজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বড় ধরণের জরিমানাও (দম) দিতে হয়।

সাধারণ হজযাত্রীদের সচেতনতায় ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. পোশাক ও সাজসজ্জা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ
সেলাই করা কাপড়: পুরুষদের জন্য শরীর বা অঙ্গের আকৃতি অনুযায়ী তৈরি সেলাই করা কাপড় (যেমন: শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, পায়জামা, জাঙ্গিয়া) পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে নারীরা তাদের স্বাভাবিক সেলাই করা মার্জিত পোশাক পরতে পারবেন।

মাথা ও মুখ ঢাকা: পুরুষদের জন্য টুপি বা কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ। নারীরা মাথা ঢাকবেন, তবে মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে (তবে পরপুরুষের সামনে পর্দা বজায় রাখতে হবে যাতে মুখের সাথে কাপড় সরাসরি লেগে না থাকে)।

সুগন্ধি ব্যবহার: সাবান, পারফিউম, আতর বা যেকোনো সুগন্ধযুক্ত তেল বা ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি সুগন্ধিযুক্ত টিস্যুও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও রূপচর্চা
চুল ও নখ কাটা: ইহরাম অবস্থায় শরীরের কোনো অংশের চুল কাটা, ছেঁড়া বা কামানো যাবে না। একইভাবে নখ কাটাও নিষিদ্ধ।

শরীরের চামড়া তোলা: শরীরের চামড়া বা খুত তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. আচরণ ও নৈতিকতা
স্ত্রী সহবাস: ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস বা এ সংক্রান্ত কোনো আলাপ-আলোচনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

অশ্লীলতা ও ঝগড়া-বিবাদ: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, হজের সময় কোনো অশ্লীল কথা বলা বা ঝগড়া-বিবাদ করা যাবে না। অন্য হজযাত্রী বা সহযোগীদের সাথে ধৈর্য ও নম্র ব্যবহার করতে হবে।

৪. শিকার ও প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট কাজ
শিকার করা: ইহরাম অবস্থায় কোনো স্থলচর প্রাণী শিকার করা বা শিকারীকে সহায়তা করা নিষিদ্ধ।

গাছপালা কাটা: হারাম শরীফের সীমানার ভেতর প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঘাস বা গাছপালা ছেঁড়া বা কাটা নিষিদ্ধ।

৫. বিবাহ ও বিয়ের প্রস্তাব
হজের ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করা বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া এবং এতে মধ্যস্থতা করা শরিয়ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

ভুলবশত নিষিদ্ধ কাজ করলে করণীয়
যদি কোনো হজযাত্রী ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলেন, তবে দ্রুত তওবা করতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের ধরণ অনুযায়ী ইসলামি বিধানে ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা বা জরিমানা (যাকে ‘দম’ বলা হয়) নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় ভুলের ক্ষেত্রে অনেক সময় একটি ভেড়া বা ছাগল কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

হজ একটি আধ্যাত্মিক সফর। তাই বাহ্যিক এই বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলার মাধ্যমে একজন হাজি তার ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত ও কবুলযোগ্য করে তুলতে পারেন।