ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইসলামে রাগ হারাম, রাগ থেকে বাঁচার সুন্নতি আমল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামিক জীবনদর্শনে রাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামিক জীবনবিধানে মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঠিক ব্যবহারের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘রাগ’ বা ‘ক্রোধ’ এমন একটি মানবিক গুণ, যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা মুমিনের অন্যতম গুণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত রাগ অনেক সময় মানুষকে হারাম ও কবিরা গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়। রাগের বশবর্তী হয়ে মানুষ গালিগালাজ, মারামারি, এমনকি হত্যার মতো জঘন্য অপরাধও করে ফেলে। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়; বরং সেই প্রকৃত শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

রাগ নিয়ন্ত্রণের ৫টি কার্যকরী উপায়
ইসলামিক স্কলাররা পবিত্র সুন্নাহর আলোকে রাগ দমনের কয়েকটি বিশেষ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন:

১. আউজুবিল্লাহ পড়া: রাগ মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। তাই রাগ অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২. চুপ থাকা: রাগের মাথায় কোনো কথা বললে তা প্রায়ই তিক্ত হয়। হাদিসে এসেছে, “তোমাদের কারো যখন রাগ আসে, সে যেন চুপ হয়ে যায়।” (মুসনাদে আহমাদ)

৩. অবস্থান পরিবর্তন: রাসুল (সা.) বলেছেন, রাগের সময় কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে সে যেন বসে পড়ে, আর বসে থাকা অবস্থায় রাগ না কমলে সে যেন শুয়ে পড়ে।

৪. অজু করা: রাগ আগুনের মতো। আর আগুন নেভাতে পানির প্রয়োজন। তাই রাগ কমাতে অজু করা অত্যন্ত কার্যকর একটি সুন্নতি আমল।

৫. ক্ষমার মহত্ব বোঝা: আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সেই সব মুমিনদের প্রশংসা করেছেন, যারা রাগকে দমন করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয় (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)।

সমাজ গঠনে এর গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের অশান্ত পৃথিবীতে পারিবারিক বিচ্ছেদ ও সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ। আল্লাহ তায়ালা রাগকে হারাম ও অপছন্দনীয় ঘোষণা করেছেন যেন মানুষ ধৈর্যের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারে। ক্ষণিকের রাগকে বিসর্জন দিয়ে জান্নাতের বিশালতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।