ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পবিত্র জিলকদ মাস ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ ও মুমিনের করণীয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
পবিত্র জিলকদ মাস ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী এই মাসটির নাম ‘জিলকদ’। এটি ইসলামের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ চারটি মাসের (জিলকদ, জিলহজ, মহরম ও রজব) অন্যতম। কুরআনুল কারিমে এই মাসগুলোতে যুদ্ধবিগ্রহ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জিলকদ মাস মূলত হজের প্রস্তুতির মাস। এই মাসে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমল ও সুন্নাহ ব্যাপকতা বহুগুন। 

জিলকদ মাস হলো হিজরি ক্যালেন্ডারের ১১তম মাস এবং ইসলামের ‘আশহুরে হুরুম’ বা চারটি সম্মানিত মাসের একটি। 

১. জিলকদ মাসে ওমরাহ পালন
নবীজি (সা.)-এর জীবনে জিলকদ মাসের বিশেষ একটি গুরুত্ব হলো ওমরাহ পালন। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সা.) জীবনে মোট চারবার ওমরাহ পালন করেছিলেন এবং তার প্রতিটিই ছিল জিলকদ মাসে (হজ সংলগ্ন ওমরাহ ব্যতীত)। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:

“রাসূলুল্লাহ (সা.) চারবার ওমরাহ করেছেন-তার সবগুলোই ছিল জিলকদ মাসে। কেবল সেই ওমরাহটি ছাড়া যা তিনি হজের সাথে আদায় করেছিলেন।” (সহিহ বুখারি: ১৭৭৮)

২. নফল রোজা পালন
জিলকদ মাস যেহেতু ‘আশহুরে হুরুম’ বা সম্মানিত মাসের অন্তর্ভুক্ত, তাই এই মাসে নফল ইবাদতের সওয়াব অনেক বেশি। নবীজি (সা.) প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজা রাখতেন। জিলকদ মাসেও তিনি এই রোজাগুলো গুরুত্বের সাথে পালন করতেন। এছাড়া প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা নবীজির নিয়মিত সুন্নাহ ছিল।

৩. হজের প্রস্তুতি গ্রহণ
জিলকদ মাসকে হজের মাসগুলোর (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ) মধ্যমণি বলা হয়। নবীজি (সা.) এই সময়ে হজের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতেন। অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর নবীজি (সা.) এই মাসেই সাহাবীদের নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং ওমরাহর বিধান পালন করেছিলেন। তাই হাজিদের সেবা করা এবং হজের মাসায়েল শিক্ষা করাও এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

৪. ঝগড়া-বিবাদ ও পাপাচার বর্জন
সূরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সম্মানিত মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম বা পাপাচার করতে নিষেধ করেছেন। নবীজি (সা.) এই মাসগুলোতে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন এবং সাহাবীদের ইবাদতে মশগুল থাকার পরামর্শ দিতেন। এই মাসে যুদ্ধ বা কলহ পরিহার করা ইসলামের প্রাচীন বিধান।

৫. অধিক হারে জিকির ও তওবা
যেকোনো সম্মানিত মাসে ইবাদতের সওয়াব যেমন বেশি, গুনাহের শাস্তিও তেমন ভয়াবহ। তাই নবীজি (সা.) এই সময়ে বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করতেন। হজের আগ মুহূর্ত হওয়ায় এই মাসটি মূলত আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির সময়।

জিলকদ মাস আমাদের দোরগোড়ায় জিলহজ বা কোরবানীর মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এই মাসে ওমরাহ পালন (সামর্থ্য থাকলে), নফল রোজা রাখা এবং নিজেকে পাপাচার থেকে মুক্ত রাখাই একজন মুমিনের প্রধান কাজ হওয়া উচিত।