ঘুম আল্লাহ তাআলার বান্দার প্রতি এক মহা অনুগ্রহ। মানুষ যদি ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারে, তবে দুনিয়ার কোনো কাজই সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে না।
মানসিক প্রশান্তির অন্যতম উপায়ও হলো পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। অনেককে ঘুমানোর জন্য ওষুধের আশ্রয় নিতে হয়। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধও কার্যকর হয় না।
এমন পরিস্থিতিতে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা ঘুমানোর আগে পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাহাবি হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-কে তিনি এই দোয়াটি পড়তে বলেছিলেন।
হাদিসে এসেছে, হজরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাখজুমি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।’
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, ‘যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন এ দোয়াটি পড়বে’—
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবই ওয়া মা আযাল্লাত, ওয়া রাব্বাল আরাদ্বীনা ওয়া মা আকাল্লাত, ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বীনি ওয়া মা আদল্লাত। কুন লি জারান মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম জামিআন। আইঁ ইয়াফরুতা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁ ইয়াবগিয়া আলাইয়্যা। আয্যা জারুকা ওয়া জাল্লা ছানাউকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা, ওয়া লা ইলাহা ইল্লা আনতা।
অর্থ : হে আল্লাহ! সাত আকাশের প্রতিপালক এবং যা কিছু তার ছায়াতলে রয়েছে, সাত জমিনের প্রতিপালক এবং যা কিছু তা বহন করছে, শয়তানদের প্রতিপালক এবং যাদের তারা বিপথগামী করেছে, তাদের অনিষ্ট থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন। আপনার সব সৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে আমাকে আশ্রয় দিন, যাতে তাদের কেউ আমার ওপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে কিংবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। আপনার আশ্রয় মহাসম্মানিত, আপনার প্রশংসা মহান। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।”
’(মুসলিম, মিশকাত)
এ ছাড়া হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।’(বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

