ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আইসিসি থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে পাকিস্তান?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
আইসিসি ও পিসিবির লোগো। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান খেলবে না। এমন ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক যেন থামছেই না। কেন পাকিস্তান খেলবে না এ বিষয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি। ফলে, বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত আইসিসি নিতে পারে বলে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ তথ্যটি সত্য কি না এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি (পিসিবি)।

আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির বিষয়েও সতর্ক করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়কট অব্যাহত থাকলে পিসিবিকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতে পারে, এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক স্থগিতাদেশও আসতে পারে।

এদিকে, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাসিত আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আইসিসির এসব প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গত বছর এশিয়া কাপ চলাকালীন ভারতের আচরণের প্রতিক্রিয়া জানালেও কেন পিসিবিকেই ‘খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাসিত আলী বলেন, ‘যে আচরণ শুরু করেছে ভারত, সেটি নিয়ে আমি কিছু বলছি না। করমর্দন বাধ্যতামূলক নয়—ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলায়নি। কিন্তু ভারতীয় দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নকভির কাছ থেকে এশিয়া কাপ ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, কারণ তাদের সরকার তা গ্রহণে আপত্তি জানিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা যদি আমাদের সরকারের অনুরোধে একটি ম্যাচ বয়কট করি, তাহলে হঠাৎ করেই আমরা খারাপ লোক হয়ে গেলাম? ভারত যদি এটা করতে পারে তাহলে পাকিস্তানও পারবে।’

বিশ্বকাপের ইতিহাস টেনে বাসিত আলী বলেন, অতীতেও নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিক দল ম্যাচ বর্জন করেছে। ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কায় খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। একইভাবে, ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড যথাক্রমে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচ বাতিল করে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দুই পয়েন্ট হারানো ছাড়া তাদের কি অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া হয়েছিল? তাহলে এখন পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে কেন?’

এ ছাড়া, গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তান সফর না করার সময় বিসিসিআই আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি দিয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাসিত আলী।

তার ভাষায়, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় বিসিসিআই কি আইসিসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছিল যে তারা পাকিস্তানে খেলবে না? আমি আইসিসির সবাইকে চ্যালেঞ্জ করছি—ওই চিঠি দেখান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করতে পারে? ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান খেলবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র পাকিস্তান সরকারেরই রয়েছে।’