বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, বিশ্বের সেরা রেফারিদের জন্যও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের অন্যতম বড় সুযোগ। তবে ম্যাচ পরিচালনার জন্য তারা কত পারিশ্রমিক পান, সেটিও অনেকের আগ্রহের বিষয়।
বিশ্বকাপ এখন নকআউট পর্বে। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই জমে উঠেছে। বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পাশাপাশি বিভিন্ন কনফেডারেশনের নির্বাচিত রেফারিরাও এই আসরে দায়িত্ব পালন করছেন।
টুর্নামেন্টের জন্য শুরুতে মোট ৫২ জন রেফারির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নাম প্রত্যাহার করেন।
যদিও টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি, তবুও আরতান অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতোই পারিশ্রমিক পাবেন। টুর্নামেন্টের সদর দপ্তর মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য কর্মকর্তাদের যে নির্ধারিত সম্মানী দেওয়া হয়, তিনিও সেই অর্থ পাবেন।
রেফারিদের ন্যূনতম পারিশ্রমিকের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঙ্ক ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কর্মকর্তাদের দেওয়া পারিশ্রমিকের প্রায় দ্বিগুণ।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলে সিনিয়র রেফারিদের আয় আরও বাড়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর তথ্য অনুযায়ী, কোনো রেফারি যদি ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান, তাহলে তিনি মোট প্রায় ৭৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন।
তবে ফাইনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যে দেশের রেফারি ফাইনাল পরিচালনা করবেন, সেই দেশের জাতীয় দল ফাইনালে খেলতে পারবে না।
উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলরের কথা বলা যায়। ইংল্যান্ড যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে তাদের কাউকেই ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার জন্য বিবেচনা করা হবে না।
এবারের বিশ্বকাপে রেফারিদের পাশাপাশি ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত কর্মকর্তা জ্যারেড গিলেট পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভিএআর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, প্রিমিয়ার লিগের রেফারিদের আয়ের দিক থেকেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পারিশ্রমিক। বোনাস ও ম্যাচ ফি মিলিয়ে একজন প্রিমিয়ার লিগ রেফারির বার্ষিক গড় আয় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড।
অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস এবং প্রতি ম্যাচের ফি। এমনকি প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে নবীন রেফারিরাও বছরে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন