বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা ট্রফি বা গোলের চেয়েও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর অন্যতম হলো ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ব্রাঙ্কোকে দেওয়া কথিত ‘রহস্যময় পানির বোতল’। তিন দশকেরও বেশি সময় পরও ঘটনাটি ‘হোলি ওয়াটার স্ক্যান্ডাল’ নামে আলোচনায় রয়েছে।
১৯৯০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখালেও গোল করতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিকে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুর্দান্ত পাস থেকে ক্লদিও কানিজিয়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে একটি পানির বোতল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকাকালে আর্জেন্টিনার দলের পক্ষ থেকে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ব্রাঙ্কোকে একটি পানির বোতল দেওয়া হয়। পরে ব্রাঙ্কো অভিযোগ করেন, পানি পান করার কিছুক্ষণ পরই তিনি মাথা ঘোরা ও অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন। তার দাবি ছিল, বোতলের পানিতে কোনো ধরনের ওষুধ বা ঘুমের ওষুধজাতীয় পদার্থ মেশানো ছিল।
পরবর্তীতে ব্রাজিলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা একই ধরনের অভিযোগ তুললেও, ঘটনার কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি। পানির নমুনাও পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে অভিযোগটি কখনোই প্রমাণিত হয়নি।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, বোতলে রোহিপনল নামের ঘুমের ওষুধজাতীয় একটি পদার্থ ছিল এবং বিষয়টি দলের কয়েকজন সদস্য জানতেন।
তবে আর্জেন্টিনার তৎকালীন কোচ কার্লোস বিলার্দো এবং দলের ম্যাসাজ থেরাপিস্ট মিগুয়েল দি লোরেঞ্জো (গ্যালিন্দেজ) অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, পুরো বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি কখনো দেওয়া হয়নি।
ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল যেমন অন্যতম, তেমনি ১৯৯০ সালের এই ‘রহস্যময় পানির বোতল’ ঘটনাও সমানভাবে আলোচিত। তবে ‘হ্যান্ড অব গড’ ছিল মাঠে সবার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা, আর ব্রাঙ্কোর পানির বোতল আজও অভিযোগ, স্মৃতিচারণ ও বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় পুরোনো এই ঘটনাও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবে আজও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি, ব্রাঙ্কোকে দেওয়া পানিতে সত্যিই কোনো ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল কি না। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রহস্য হিসেবেই ঘটনাটি রয়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন