দেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই মধ্যে ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে কোনো লঘুচাপের প্রভাব নেই। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি অন্তত আরও পাঁচ দিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসা এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধা হওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

