ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শ্রীলঙ্কায় চালু হলো জ্বালানি রেশন ও ‘নো-ওয়ার্ক’ পলিসি

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ক্যান্ডি শহরের প্রচণ্ড রোদে তিন চাকার অটো নিয়ে দীর্ঘ এক আঁকাবাঁকা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কির্থি রত্ন। ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডি শহরের প্রচণ্ড রোদে তিন চাকার অটো নিয়ে দীর্ঘ এক আঁকাবাঁকা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কির্থি রত্ন। হাতে কিউআর কোড সংবলিত রেশন কার্ড। সপ্তাহে মাত্র ২০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ তার জন্য। অথচ মাসখানেক আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওলটপালট হয়ে গেছে জনজীবন।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেই কৌশলগত ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শ্রীলঙ্কা তার জ্বালানি চাহিদার ৬০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আমদানি করে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে মাত্র এক মাসের মজুত সক্ষমতা থাকায় বাধ্য হয়েই গত ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের মতো আবারও কিউআর-ভিত্তিক জ্বালানি রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে বর্তমান সরকার।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে মোটরসাইকেলের জন্য ৮ লিটার, অটো ২০ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি ২৫ লিটার, বাস ১০০ লিটার এবং লরির জন্য ২০০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু রেশন নয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দামও বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের আয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বাস ভাড়া একলাফে ১২ শতাংশের বেশি বাড়লেও মানুষের আয় বাড়েনি। 

রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শিরান ইলানপেরুমা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির গবেষকদের মতে, সারের অন্যতম প্রধান উপাদান ইউরিয়া ও সালফার আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় শ্রীলঙ্কায় খাদ্যপণ্যের দাম আরও ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা কমাতে প্রেসিডেন্ট অনুরা দিসানায়েকের সরকার প্রতি বুধবার ‘নো-ওয়ার্ক’ বা সরকারি অফিস ও স্কুল বন্ধ রাখার নীতি ঘোষণা করেছে। 

ক্যাবিনেট মুখপাত্র নলিন্দ জয়তিসা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার দেশের মানুষকে বাঁচাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। তবে এই লোকসান মেনে না নিলে পুরো পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছে কলম্বো। সম্প্রতি রাশিয়ার উপ-জ্বালানি মন্ত্রী রোমান মার্শাভিন শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন। 

এদিকে অনেকে বলছে, ভারতের শোধনাগার ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল আমদানির দ্বিপাক্ষিক চুক্তিই হতে পারে বর্তমান সমস্যার সমাধান। এছাড়া ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় ত্রিনকোমালিতে পুরনো ব্রিটিশ আমলের জ্বালানি খামার সংস্কারের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : আলজাজিরা